ডারউইনে প্রথম টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এর পরপরই ম্যাকাইতে দ্বিতীয় টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৬৪ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৫ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ও ৫১ রানে পরাজিত হয় টাইগাররা। দুই ম্যাচের এই রোমাঞ্চকর সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হলেও বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় ৪ নম্বর অবস্থানটি এখনো নিজেদের দখলে রাখতে পেরেছে বাংলাদেশ।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই চক্রে পয়েন্ট তালিকার অবস্থান নির্ধারিত হয় মোট অর্জিত সম্ভাব্য পয়েন্টের অর্জিত শতাংশ বা ‘পিসিটি’ অনুযায়ী। ২০২৭ সালের জুনে লর্ডসের ফাইনালে খেলার টিকিট পেতে কোন দলের পরিস্থিতি এখন ঠিক কেমন এবং বাংলাদেশ কীভাবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে, সেই সমীকরণ নিয়েই এখন ভাবছে ক্রীড়ামহল।
বাংলাদেশ ও ফাইনালের জটিল সমীকরণ
বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ৬টি টেস্ট খেলে ৩টি জয়, ২টি হার ও ১টি ড্র অর্জন করেছে। তাদের ঝুলিতে জমেছে ৪০ পয়েন্ট এবং পিসিটি ৫৫.৫৬ শতাংশ। ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা বলে, ৬০ শতাংশের বেশি পিসিটি নিশ্চিত করতে পারলে ফাইনালে ওঠার দৌড়ে শক্তভাবে টিকে থাকা সম্ভব।
বাংলাদেশকে সেই লক্ষ্য স্পর্শ করতে হলে বাকি ৬টি টেস্ট থেকে কমপক্ষে ৪৭ পয়েন্ট যোগ করতে হবে। বাংলাদেশ পরবর্তী সিরিজগুলো খেলবে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এবং বাইরে গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে। টাইগারদের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ হলো ঘরের মাঠে হতে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৪টি টেস্টের সব কটিতে জয় পাওয়া।
আর ঘরের মাঠের সেই চার জয়ের সঙ্গে যদি প্রোটিয়াদের বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে অতিরিক্ত অন্তত একটি ম্যাচে জয় ছিনিয়ে নেওয়া যায়, তবে বাংলাদেশের পিসিটি লাফিয়ে ৬৯.৪৪ শতাংশে পৌঁছাবে। এই অর্জন নিশ্চিত করতে পারলে প্রথমবারের মতো বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হতে পারে বাংলাদেশের সামনে।
প্রতিপক্ষের হালচাল
পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থেকে ফাইনালে ওঠার সবচেয়ে শক্ত দাবিদার হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে অস্ট্রেলিয়া। ১০ ম্যাচে ৮টি জয় ও ২টি হারে ৯৬ পয়েন্ট নিয়ে তাদের পিসিটি দাঁড়িয়েছে ৮০.০০ শতাংশে। বাকি থাকা ১২টি টেস্টের মধ্যে আর মাত্র ৫টি জয় ও ১টি ড্র পেলেই অজিরা লর্ডসের টিকিট প্রায় পকেটে পুরে ফেলবে।
অন্যদিকে ৪ টেস্টে ৩ জয়ে ৩৬ পয়েন্ট ও ৭৫.০০ শতাংশ পিসিটি নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তারা তাদের বাকি ১০টি ম্যাচের ৮টিই খেলবে ঘরের মাঠে। ফলে সেখানে ৫টি জয় ও ২টি ড্র তুলে নিতে পারলেই ফাইনালে তাদের নাম উঠে যাবে।
নিউজিল্যান্ডও ৭২.২২ শতাংশ পিসিটি নিয়ে অত্যন্ত ফুরফুরে অবস্থায় তিন নম্বরে অবস্থান করছে। ৬ ম্যাচে ৪টি জয় পাওয়া কিউইদের সামনে থাকা ১০ টেস্টের অন্তত ৬টিতে জয় পেলেই ফাইনালের লড়াইয়ে তারা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠবে।
ভারত বর্তমানে ১০ ম্যাচে ৫ জয়, ৪ হার ও ১ ড্র নিয়ে ৫৩.৩৩ শতাংশ পিসিটিতে ৫ নম্বরে অবস্থান করছে। ফাইনালের স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে হলে রোহিত শর্মার দলকে বাকি থাকা ৮ টেস্টের অন্তত ৬টিতে জয় হাসিল করতেই হবে, যার অধিকাংশ ম্যাচই তাদের খেলতে হবে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে।
তালিকার বাকি দলগুলোর জন্য সমীকরণ অত্যন্ত কঠিন কিংবা অসম্ভব। ৬ নম্বরে থাকা শ্রীলঙ্কার পিসিটি ৩৩.৩৩ শতাংশ। বাকি ৭ টেস্টের ৬টিতে জিতলে তাদের ভাগ্য খুললেও খুলতে পারে। ইংল্যান্ড ধীরগতির ওভার রেটের কারণে ১৪ পয়েন্ট জরিমানা গোণায় ১৪ ম্যাচে ২৯.৭৬ শতাংশ পিসিটি নিয়ে ৭ নম্বরে আটকে গেছে। বাকি সব টেস্ট জিতলেও তাদের পিসিটি ৫৩.১৭ শতাংশের বেশি হবে না, যা ফাইনালের জন্য যথেষ্ট নয়।
পাকিস্তানও স্লো ওভার রেটের পেনাল্টি এবং খারাপ ফর্মের কারণে ২২.২২ শতাংশ পিসিটি নিয়ে ৮ নম্বরে রয়েছে। আর ১২ ম্যাচে মাত্র ২ জয়ে ২০.৮৩ শতাংশ পিসিটি থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইতোমধ্যেই ফাইনালের দৌড় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছিটকে গেছে।