Home প্রচ্ছদ এমপি হওয়ার পর জীবন উপভোগের সুযোগ মেলেনি: মাহমুদা মিতু

এমপি হওয়ার পর জীবন উপভোগের সুযোগ মেলেনি: মাহমুদা মিতু

Share

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু বলেছেন, এমপি হওয়ার পর নিজের জীবন একদিনের জন্যও উপভোগ করতে পারিনি।

সংসদ সদস্য হওয়ার পর ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত ব্যস্ততায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এমনকি চিকিৎসক হিসেবে প্রিয় বিষয় গাইনোকোলজির বই নিয়েও আর আগের মতো সময় কাটানো হয় না।

রোববার (২৮ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।

 

ডা. মাহমুদা মিতুর ফেসবুক পোস্টটি তুলে ধরা হলো—

আমার একটা সুন্দর, হাসিখুশি জীবন ছিল। দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করতে করতে নিজের অজান্তেই সেই জীবনটা অন্য এক জীবনে রূপ নিল। আমার এই আইডিটা এক সময় এমন ছিল, যেখানে একটু ঘুরে গেলেই মানুষের মন ভালো হয়ে যেত। ইচ্ছেমতো সার্কাজম করতাম, মজা করতাম, আড্ডা দিতাম। তারপর ২০২৪ এলো সবকিছু যেন এলোমেলো হয়ে গেল। শুধু আমার নয়, আমার মতো আরও অনেকের জীবনই হয়তো বদলে গেছে। মনের ভারের পাশাপাশি শরীরেও নানা রোগ বেঁধেছে।

অনেকেই ভাবেন, “এমপি হয়েছে, কত কিছু পেয়েছে!” অথচ সত্যিটা হলো, আমার এমন একটি ক্যারিয়ার, পরিচিতি এবং কাজের অভিজ্ঞতা ছিল, যা দিয়ে চাইলে আজকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারতাম। হয়তো আল্লাহর পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন।

এমপি হওয়ার পর এই জীবনটাকে আমি একদিনও উপভোগ করতে পারিনি। হেসেছি অনেক। তবে কারণ শুধু এই নয় যে, আমি আর আমার প্রিয় গাইনোকোলজির বই খুলে বসি না। আসল কারণ হলো, এই পথ চলতে গিয়ে কোথাও যেন নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছি।

আমি মাথা না নোয়ানো মেয়ে, আজকাল মাথা নোয়াতে হয়, সবার ভালোর জন্য কম্প্রোমাইজ করতে হয়। এখন আর মন চাইলেই প্রতিবাদ করতে পারি না। অট্টহাসি দেখলেও বলতে পারি না, “একবার ভাবুন, কোথা থেকে কোথায় এসেছেন। একটু মাটির দিকে তাকান, দয়া করে। কত বিপ্লবীর রক্তে রাঙা এই মাটি!!!

সংসদে যতবার জুলাই নিয়ে আলোচনা হয়, ততবার মনে হয় ভেতরের সবকিছু চুরমার হয়ে যাচ্ছে। কান্না পায়। সেই ছেলেগুলোর লাশ চোখে ভাসে কিন্তু সেই কান্নাটুকু চেপে লুকিয়ে ফেলতে হয়। হেরে যাচ্ছি যে সেটা কাউকে বুঝতে দিতে মন চায় না। ক্ষমতা মানুষকে সব সময় শক্তিশালী করে না, কখনো কখনো সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয় নিজের স্বাভাবিক হাসি, নিজের স্বাধীনতা আর নিজের সত্তাকে। সেই মূল্যটা যারা দেয়, তারাই জানে এর ভার কতটা।

রাজনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা আজ হয়তো অনেকেই অনুভব করছেন না। কিন্তু সময়ই একদিন এর মূল্য বুঝিয়ে দেবে। দিন শেষে সবচেয়ে বড় আশ্রয় একটাই, আল্লাহ আছেন। তিনি অন্তর্যামী, মানুষের উচ্চারিত শব্দের চেয়েও নীরব দীর্ঘশ্বাস তিনি বেশি জানেন। তিনি সব দেখেন, সব জানেন এবং তার বিচারই সর্বোত্তম। সেই অপেক্ষায় রইলাম।

Related Articles

৪৯ বছর বয়সেও আকর্ষণীয় থাকার রহস্য জানালেন শাকিরা

শাকিরা নাম শুনলেই মনে ভেসে ওঠে ২০১০ বিশ্বকাপের ‘ওয়াকা ওয়াকা’ গান। ২০২৬...

অর্থবিল ২০২৬ সংসদে পাস

সংসদ ভবন, ২৯ জুন, ২০২৬ (বাসস): জাতীয় সংসদ আজ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীসহ...

জায়গা কিনে প্রতারক চক্রের টার্গেটে ডা. বাছেদুর রহমান সোহেল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপ্রপ্রচারে নিন্দা ও প্রতিবাদ

জায়গা কিনে একটি প্রতারক চক্রের ট্যার্গেট হয়েছেন ডা. বাছেদুর রহমান সোহেল। এক...

নাসিরের কাঁধে উঠে তামিমার খুনসুটি

তামিমা সুলতানা তাম্মি, ক্রিকেটার নাসির হোসেনের স্ত্রী। এ জুটি নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা...