আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির বর্ণিল অধ্যায়ের সমাপ্তি হয়েছে। জাতীয় দলকে বিদায় জানানো এই কিংবদন্তিকে এবার বিশেষভাবে সম্মান জানাবে আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবল। আসন্ন সব ঘরোয়া ম্যাচের ১০ মিনিটের মাথায় এক মিনিটের জন্য খেলা থামিয়ে মেসির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এএফএ জানিয়েছে, পুরুষ ও নারী—সব বিভাগ এবং সব ধরনের ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় এই শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। ম্যাচের প্রথমার্ধের ১০ মিনিট পূর্ণ হলে এক মিনিটের জন্য খেলা বন্ধ থাকবে। এ সময় মাঠে উপস্থিত দর্শক, খেলোয়াড় ও সংশ্লিষ্ট সবাই মেসির জাতীয় দলের ক্যারিয়ারের প্রতি সম্মান জানাবেন।
যেসব স্টেডিয়ামে ভিডিও বোর্ড রয়েছে, সেসব মাঠে ম্যাচ শুরুর আগে মেসিকে নিয়ে বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি ভিডিওও দেখানো হবে। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর এএফএর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওটি সেখানে প্রদর্শন করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার ইনস্টাগ্রামে হাতে লেখা একটি চিঠির ছবি প্রকাশ করে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। তিনি জানান, ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটিই ছিল আর্জেন্টিনার হয়ে তার শেষ ম্যাচ। ৩৯ বছর বয়সে এসে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
নিজের চিঠিতে মেসি লিখেছেন, ‘আমি আমার সবটুকু দিয়েছি; দেওয়ার মতো আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।’ সিদ্ধান্তটি নেওয়া সহজ ছিল না জানিয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক বলেন, ‘এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত, যা আমাকে কষ্ট দিয়েছে—এখনো ভেতর থেকে গভীরভাবে কষ্ট দেয়। তবে আমি বুঝতে পারছি, সময় এসে গেছে।’
২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলে অভিষেক হয় মেসির। এরপর দুই দশকের বেশি সময় ধরে আলবিসেলেস্তেদের হয়ে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে ১২৫ গোল করে আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছেন এই তারকা।
বিশ্বকাপেও মেসির রয়েছে অনন্য সব কীর্তি। আর্জেন্টিনার হয়ে ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৩৪ ম্যাচ খেলার রেকর্ড এখন তার দখলে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ২৩টি ম্যাচ জয়ের রেকর্ডও রয়েছে তার।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন অবশ্যই ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ জয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সেই আসরেই আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের শিরোপা এনে দেন মেসি। ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় আর্জেন্টিনা, যা দেশটির ইতিহাসে তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা।