বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের আদলে নয়, একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চান বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলা হবে, যেখানে প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষ রাষ্ট্রের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা পাবেন এবং মর্যাদা অনুযায়ী প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত হবে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পুরোনো স্টেডিয়াম মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে সরকার বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে—আজকের আয়োজন তারই একটি প্রমাণ।
তিনি বলেন, অতীতে অনেক সময় বাংলাদেশকে অমুক বা তমুক দেশের মতো করে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তারা বাংলাদেশকে অন্য কোনো দেশের আদলে গড়ে তুলতে চান না। তারা এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চান, যেখানে রাষ্ট্র তার সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে দাঁড়াবে এবং প্রত্যেক নাগরিক তার মর্যাদা অনুযায়ী রাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রাপ্য অধিকার পাবেন।
নারীদের উন্নয়ন ছাড়া দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাই নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। নির্বাচনের আগে পরিবারের নারী প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
নারী শিক্ষার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্র পরিচালনার সময় নারীদের ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। সেই নীতিকে আরও এগিয়ে নিয়ে বর্তমান সরকার নারীদের অনার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি ভালো ফলাফল করা শিক্ষার্থীদের সরকারি বৃত্তির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ নারীরা কীভাবে ব্যবহার করবেন, সে প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কার্ড পাওয়া কয়েকজন নারীর সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। তাদের কেউ সন্তানদের লেখাপড়ার পেছনে অর্থ ব্যয়ের কথা জানিয়েছেন, কেউ ওষুধ কেনার কথা বলেছেন। আবার কেউ সংসারের আয় বাড়াতে ছোট পরিসরে পুঁজি বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীদের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা নিজেরা আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পাশাপাশি পরিবারকে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে পারেন।
ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সরকারি সহায়তার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মানুষের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তারা পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে থাকেন। তাই তাদেরও অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে সরকার ভাতার ব্যবস্থা করেছে।
কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। কৃষকদের শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সরকার গঠনের পর প্রথম সপ্তাহেই মন্ত্রিসভার বৈঠকে ১৩ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে।
তরুণ ও শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য প্রতিভা বিকাশের সুযোগও তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, “আমাদের ফ্যামিলি কার্ডের বাস্তবায়ন করতে হবে। কৃষক কার্ডের বাস্তবায়ন করতে হবে। ইমাম-মুয়াজ্জিন সাহেবদের যে ভাতা, সেটির বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের ভবিষ্যৎ সন্তানদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা মানুষের মতো মানুষ হতে পারে।”
দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে নতুন নতুন মিল-কারখানা তৈরি করতে হবে। এতে বেকার যুবক-যুবতী ও তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিনসহ মৎস্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, মৎস্যচাষি, জেলে, উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পুরোনো ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বিতরণ করেন এবং কটিয়াদীতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধন করেন
সুত্রঃ সময়ের কণ্ঠস্বর