তারকা ফরোয়ার্ড নেইমারের অনুপস্থিতিতে সাম্প্রতিক সময়ে ব্রাজিল দলের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। মাঠের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দিয়ে তিনি সেই আস্থার প্রতিদানও দিয়ে চলেছেন প্রতিনিয়ত। চলতি বিশ্বকাপের প্রথম তিন ম্যাচে ব্রাজিলের হয়ে ৪টি গোল করার পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্টও করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড। এমনকি সবশেষ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচেও যেখানে নেইমার মাঠে ফিরেছেন, সেখানে জোড়া গোল এসেছে ভিনির পা থেকে। তবে দলের মূল কাণ্ডারি হিসেবে তিনি এখনো নেইমারকেই সবার উপরে রাখছেন।
দীর্ঘদিন পর প্রিয় সতীর্থকে মাঠে পেয়ে ম্যাচ শেষে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ভিনিসিয়াস। তিনি বলেন, আমাদের সবার জন্যই এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি মুহূর্ত। আমাদের প্রিয় আইডল পুনরায় দলে ফিরে এসেছেন। তিনি এমন একজন ব্যক্তিত্ব, যিনি এই জায়গায় ফেরার জন্য প্রতিনিয়ত কঠোর সংগ্রাম করেছেন এবং নিজের সর্বোচ্চটা বিলিয়ে দিয়েছেন। অবশেষে সব চোট কাটিয়ে তিনি মাঠে ফিরলেন।
সমর্থকদের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা পূরণে নেইমার বড় ভূমিকা রাখবেন বলে বিশ্বাস করেন ভিনি। তিনি আরও যোগ করেন, আমি আশা করি তিনি নিজের খেলার ধার আরও বাড়িয়ে নেবেন এবং পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আমাদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করবেন। দিনশেষে দলের সাফল্যই সবচেয়ে বড় বিষয়।
বৃহস্পতিবার সকালে মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল সেলেসাওরা। এই ম্যাচটির মাধ্যমেই দীর্ঘ ৩২ মাসের দীর্ঘ চোট কাটিয়ে আবারো জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ালেন নেইমার। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে ম্যাথিউস কুনিয়ার পরিবর্তে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে এই তারকাকে মাঠে নামান সেলেসাওদের কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
নেইমারের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তনে পুরো ব্রাজিল শিবিরে স্বস্তি নেমে এসেছে। দলের অন্যতম সেরা এই তারকাকে ফিরে পেয়ে কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে সতীর্থ খেলোয়াড়দের সবাই দারুণ আনন্দিত। তবে আক্রমণভাগে বাড়তি শক্তি পাওয়ার সমীকরণে সবচেয়ে বেশি খুশি ভিনিসিয়াস জুনিয়র।
উল্লেখ্য, ৩৪ বছর বয়সী নেইমার ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডের অধিকারী। দেশের হয়ে এখন পর্যন্ত ১৩০টি ম্যাচ খেলে তিনি মোট ৭৯টি গোল করেছেন। এর মধ্যে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ভেনিজুয়েলার এই মহাতারকার নামের পাশে রয়েছে ৮টি গোল।