বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক শাপলার নিহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দেওয়ার দাবি জানান।
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে কোনো একটি দল নয়, সবার দলের নেতাকর্মীরা যোগ দিয়েছিলেন।
শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে শাপলা স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে ‘তেরো থেকে শাপলা: শাহাদাতের সিলসিলা’ শীর্ষক তথ্যচিত্র প্রদর্শনের শেষ দিনে ‘শাপলার শহীদগাঁথা’ স্মরণে এসব কথা বলেছেন তাঁরা।
‘শাপলা স্মৃতি প্রতিযোগিতা-২০২৬’ এর সাত বিভাগে বিজয়ী ১১০ জন প্রতিযোগীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় অনুষ্ঠান থেকে।
শাপলা স্মৃতি সংসদের চেয়ারম্যান মুহাম্মাদ মামুনুল হক সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শুধু কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকরা শহীদ হননি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছিলেন। বিএনপির কর্মী ছিলেন, জামায়াতের কর্মী ছিলেন, জাতীয় পার্টিরও কর্মীরা ছিলেন, সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জহিরউদ্দিন স্বপন বলেন, সেদিন খালেদা জিয়া সর্বোচ্চ সমর্থন দিয়েছিলেন। যার আর কেউ পারেননি।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ইতিহাসের সবচেয়ে সুষ্ঠু বলে মন্ত্রী আখ্যা দিলে দর্শক সারি থেকে প্রতিবাদ করা হয়।
জহিরউদ্দিন স্বপন তখন বলেন, অতীতে যে কোনো নির্বাচনের চেয়ে স্বচ্ছ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদের প্রথম অধিবেশনেই শাপলা শহীদদের স্মরণ করেছেন। যে কারণে শহীদদের স্মরণ করেছি, সে কারণেই পরবর্তী দায়িত্বও সরকার গ্রহণ করবে।
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেছেন, ২০১৩ সালের ৫ মে কারাবন্দি অবস্থায় গণহত্যার সংবাদ পেয়েছিলেন। সেদিন শেখ হাসিনা শাহবাগপন্থীদের উস্কে দিয়েছিলেন।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেন, ২০১৩, ২০২১ ও ২০২৪—প্রতিটি সংকটে আলেম-ওলামারা দেশের জন্য জেগে উঠেছেন। যদি আমরা শহীদদের যথাযথ সম্মান দিতে না পারি, তাহলে ভবিষ্যতের সংকটে কেউ জীবন উৎসর্গে এগিয়ে আসবে না।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, হেফাজতের ১৩ দফা নিয়ে নিয়ে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু দাবি উত্থাপন করা গণতান্ত্রিক অধিকার। এই দাবিকে কেন্দ্র করে যে নির্মম দমন-পীড়ন চালানো হয়, তা ছিল গণতন্ত্রবিরোধী।
সীমান্ত পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে ফুয়াদ বলেন, ওলামায়ে কেরামকে সচেতন ও প্রস্তুত থাকতে হবে। গেরুয়া আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে এবং সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
খেলাফতের নারী এমপি মাহবুবা হাকিম বলেন, শাপলা গণহত্যার বিচার ও ডকুমেন্টেশন একসাথেই এগোতে হবে। তবেই শাপলার দায় পূর্ণতা পাবে।
সমাবেশে হেফাজতের নায়েবে আমির মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির এমপি কামরুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ খেলাফতের এমপি সাইদ উদ্দীন আহমাদ হানজালা, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী, হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীন বক্তৃতা করেন।