মোঃ বেলাল হোসেন, ১৪জানুয়ারি ২০২৬খ্রি. তারিখ এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-২) হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন । প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে চলিত দায়িত্বের প্রায় ৩মাস অতিবাহিত হলেও গ্রেড-১ শূন্যপদে এখনো মো:বেলাল হোসেনকে পদোন্নতি না দেওয়ায় এলজিইডি’র কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তুষ্টি দেখা যাচ্ছে।মো: বেলাল হোসেন সম্পর্কে খোজ নিয়ে জানা গেছে বেলাল হোসেন কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায় জন্ম গ্রহণ করেছেন । ছোট বেলা থেকেই তিনি সৎ পথে চলেছেন । তার স্কুলের বন্ধুরা এবং তার জেলার লোকেরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন । তাঁর বাবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন এবং একজন ধনী ব্যাক্তি ছিলেন ।
বেলাল হোসেন ১৯৮২ সালে এসএসসিতে ১ম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হন । তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। রাজনীতিতে যুক্ত থেকেও একাডেমিক ফলাফল ভালো করার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখেছেন তিনি, ১৯৮৪ সালে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসিতে ১ম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হন এবং রুয়েট থেকে অনার্স মার্ক সহ ১ম শ্রেণীতে ১ম স্থান নিয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী লাভ করেন ।
জনাব বেলাল হোসেন ডুয়েট, গাজীপুরের প্রভাষক হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন । পরবর্তিতে তিনি ১৯৯২ সালে এলজিইডিতে যোগদান করেন। চাকুরী জীবনের শুরুতে তিনি কুমিল্লা বার্ডে ২ মাসের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন । উক্ত প্রশিক্ষণে তিনি ১ম স্থান অর্জন করেন । তিনি ১৯৯৩-৯৬ সালে বিএনপির বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে কাজ করেছেন। উক্ত কার্যকালীন সময়ে তিনি একবার শ্রেষ্ঠ উপজেলা প্রকৌশলীর পুরস্কার প্রাপ্ত হন ।
জনাব বেলাল হোসেন ২০১২ সালে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে গাইবান্ধা জেলায় যোগদান করেন । সাবেক ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী তাঁর লোককে কাজ না দেয়ায় জনাব বেলাল হোসেন এর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে বদলি করে দেন । নীলফামারী জেলার কাজের মান অত্যন্ত খারাপ হওয়ায় এলজিইডি কতৃপক্ষ বেলাল হোসেনকে নীলফামারী জেলায় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে পোস্টিং প্রদান করেন । সেখানে যোগদানের পর তিনি কাজের গুণগত মান ফিরিয়ে আনেন । তিনি নিজেই বিভিন্ন রাস্তায় ল্যাবরেটরি টেস্টে যেতেন ।
২০২০ সালের মার্চে তিনি এলজিইডি সদর দপ্তরে বদলি হয়ে চলে আসেন । প্রায় ১ বছর ডিপিডি হিসাবে কাজ করেন । গাইবান্ধা ঘাঘট লেকের উন্নয়ন কাজ মুখ থুবরে পরলে তৎকালীন পিডি এস্তফা দিলে প্রধান প্রকৌশলী জোর করে তাঁকে এই দায়িত্ব প্রদান করেন । বেলাল হোসেন অত্যন্ত সফলভাবে এই কাজ সমাপ্ত করেন । নারায়ণগঞ্জ কদম রসুল ব্রিজ নির্মাণ কাজের জন্য কোন প্রকৌশলী পিডি হতে আগ্রহী না হলে অত্যন্ত গোপনে তাঁকে না জানিয়ে তাঁকে পিডি নিয়োগ করা হয় । তিনি তার মেধা ও দক্ষতা দিয়ে বুয়েট, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের সহযোগিতায় দৃষ্টিনন্দন ও দেশের ১ম Cable stayed bridge নির্মাণের ডিজাইন প্রাক্কলন প্রণয়ন করেন যা বর্তমানে নতুন পিডির মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে ।
সাবেক প্রধান প্রকৌশলী বৃহৎ ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পের পিডি ছিলেন । তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসাবে পদোন্নতি পেলে তার প্রকল্পে অত্যন্ত জটিলতা থাকায় কেউ ওই প্রকল্প নিতে রাজি না হলে প্রধান প্রকৌশলী গোপনে বেলাল হোসেনকে না জানিয়ে পিডির দায়িত্ব প্রদান করেন। তিনি ব্যপক পরিশ্রম করে প্রকল্পটি সমাপ্ত করেন । তা ছাড়াও তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসাবে প্রশাসন ,ডিজাইন ও প্রশিক্ষণে সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন । সর্বশেষ তিনি অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসাবে Supporting Rural Bridge, Primary School Construction কাজে গতি নিয়ে আসেন ।