রাজধানী ঢাকায় রিকশা, অটোরিকশা ও ভ্যান চলাচল বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা সিটি করপোরেশনের নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ‘ডিএসসিসি’ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তবে মেগাসিটির ট্রাফিক জট নিরসন ও একটি শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে খুব শিগগিরই এসব যানবাহনকে বৈধ লাইসেন্স ও নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সোমবার (১ জুন) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী রিকশা, ভ্যান ও অটোচালক দলের উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, ঢাকা শহরে এমন বিশৃঙ্খল ট্রাফিক পরিস্থিতি অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে না। তবে রিকশা বা ভ্যান পুরোপুরি বন্ধ না করে এগুলোকে অবশ্যই নিয়ম ও শৃঙ্খলার মধ্যে পরিচালনা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যেভাবে ঢাকার ফুটপাতের হকারদের একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার মধ্যে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে, ঠিক একইভাবে রিকশা ও অটোরিকশাকেও ডিজিটাল নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। ঢাকার বাইরে থেকে হঠাৎ যে কেউ এসে ঢাকা শহরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে রিকশা চালানো শুরু করলে তা মহানগরের শৃঙ্খলা নষ্ট করে, তাই যে এলাকার চালক, তাকে সেই নির্দিষ্ট এলাকাতেই পরিবহন পরিচালনা করতে হবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক আরও জানান, রিকশা ও অটোরিকশাকে সুনির্দিষ্ট লাইসেন্সের আওতায় আনা গেলে রাজধানীর যানজট অনেকাংশে কমবে এবং প্রতিটি চালকের সঠিক পরিচয় ও কার্যক্রম সুনির্দিষ্ট হবে। ঢাকার ব্যাটারিচালিত রিকশা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব যানবাহনের ব্রেকিং ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে এবং এটি নিয়ে নগরবাসীর মাঝে নিরাপত্তা উদ্বেগ রয়েছে। তাই কারিগরি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কীভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশা সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ের চালকদের বাস্তবসম্মত মতামতও নেওয়া হবে।
তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত মানবিক এবং তার কঠোর নির্দেশনা হলো রিকশা বা ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা কোনো দরিদ্র মানুষকে উচ্ছেদ করা যাবে না, বরং তাদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে।
ঢাকার সড়কে আধুনিক শৃঙ্খলা আনতে ইতিমধ্যেই ইলেকট্রনিক ট্রাফিক সিগন্যাল ও স্বয়ংক্রিয় জরিমানার ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, রিকশা ও অটোরিকশার ক্ষেত্রেও অনুরূপ ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর দূরদর্শী পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুতই চালক সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি কার্যকর ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
চালক দলের নেতা অধ্যাপক আশফাকুল ইসলাম মনুর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপুসহ স্থানীয় ও অঙ্গসংগঠনের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।