Home জাতীয় ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করলেন তারেক রহমান

ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করলেন তারেক রহমান

Share

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ক্ষমতা গ্রহণের ২০ দিনের মাথায় ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ কার্ডের আওতায় ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারী প্রধান প্রতিটি পরিবারকে মাসিক আড়াই হাজার টাকা করে ভাতা দেবে সরকার।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি-সংলগ্ন) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় কয়েকজন নারীর হাতে কার্ড তুলে দেন তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল আলম মিল্টন।

উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা। অনুষ্ঠানে প্রজেক্টরে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র উপস্থাপন করা হয়।

পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হলো। প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিটি খানার (পরিবার) তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি দফতরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের কাজ আগেই শেষ হয়েছে। ওয়ার্ড কমিটি সরেজমিনে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, আবাসন এবং ব্যবহৃত আসবাব ও গৃহস্থালি সামগ্রীর তথ্য সংগ্রহ করেছেন। সংগৃহীত তথ্যগুলো ইউনিয়ন ও উপজেলা কমিটির মাধ্যমে অধিকতর যাচাই করে চূড়ান্ত তালিকা করা হয়েছে।

সোমবার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, পাইলটিং পর্যায়ে সারাদেশে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিলো। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ বা দারিদ্র্য সূচক মান নির্ণয় করে পরিবারগুলোকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। এর মধ্যে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত ৫১ হাজার ৮০৫টি খানার তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে একই ব্যক্তির একাধিক ভাতা গ্রহণ (ডাবল ডিপিং), সরকারি চাকরি বা পেনশনের মতো বিষয়গুলো যাচাই শেষে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে এ ভাতার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।

পুরো প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় এখানে কোনও ধরনের স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলে জানানো হয়।

ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রতিটি পরিবার একটি করে আধুনিক কার্ড পাচ্ছে। স্পর্শবিহীন চিপসংবলিত এ কার্ডে কিউআর কোড ও এনএফসি (নেয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা কার্ডটিকে নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী করবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় বলছে, পাঁচ সদস্যের পরিবারের জন্য একটি কার্ড বণ্টন করা হচ্ছে। তবে, সদস্য সংখ্যা বেশি হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ডের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান যদি অন্য কোনও সরকারি ভাতা পান, তবে সেই সুবিধা বাতিল হবে। তবে, পরিবারের অন্য সদস্যদের অন্যান্য ভাতা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে সুবিধাভোগীরা মাসিক আড়াই হাজার টাকা করে নগদ ভাতা পাবেন। পরবর্তীতে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আরও জানায়, জি-টু-পি পদ্ধতিতে সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভাতার টাকা জমা হবে। এতে কোনও ধরনের মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ বা বিলম্বের সুযোগ থাকবে না। পাইলটিং পর্যায়ে আগামী জুনের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এর মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে এবং বাকি টাকা অনলাইন সিস্টেম ও কার্ড প্রস্তুতির কাজে ব্যয় হবে। কর্মসূচিটি পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে সরকার।

Related Articles

মিস লংকা’র হিপহপ ভার্সন নিয়ে আসছেন জি সিম

শ্রোতাদের জন্য ঈদে নতুন গান নিয়ে আসছেন দেশের আন্ডারগ্রাউন্ড র‍্যাপ শিল্পী জি...

বগুড়ার বৃহত্তর ভস্তা ঈদগাঁ মাঠের নতুন কমিটি গঠন

সিনিয়র সাংবাদিক ইসহাক আসিফকে উপদেষ্টা করে শেরপুর উপজেলার বৃহত্তর ভস্তা ঈদগাঁ মাঠের...

ঢাবিতে তোফাজ্জল হত্যা, ২২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে তোফাজ্জল নামের মানসিক...

নারীর অগ্রযাত্রা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব: মির্জা ফখরুল

নারীদের পেছনে রেখে কোনোভাবেই জাতীয় লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন...