জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য ‘এমপি’ হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা চাঁদা দাবি ও অবৈধ অর্থ পাচারের এক গুরুতর বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি এই দুই তরুণ রাজনৈতিক নেতাকে ‘চিটার, বাটপাড় ও অমানুষ’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন।
সোমবার (১ জুন) সকালে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল অষ্টগ্রামে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের দেওয়া এমন আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র তোলপাড়ের সৃষ্টি করেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাজারো জনতার উদ্দেশ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান গত ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ের কিছু কথিত ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, দেশ স্বাধীনের পর ৫ আগস্টের পর দুজন লোক লাইমলাইটে আসে, যাদের একজন অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি সরাসরি কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের ‘ডিসি’ কার্যালয়ে গিয়ে ধমকের সুরে বলেছিলেন, ‘আমাকে অনতিবিলম্বে ১৫ কোটি টাকা দাও, রাজস্ব ভাণ্ডারের টাকা না দিয়ে তোমার কোনো উপায় নাই।’
আর অন্যজনের নাম হাসনাত আব্দুল্লাহ, যিনি এখন ক্ষমতার জোরে এমপি হয়েছেন। তিনি নিজে গিয়ে ডিসিকে বলেছিলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত ফাণ্ডে ১০ কোটি টাকা দিয়ে দাও।’ ফজলুর রহমান চরম ক্ষোভের সাথে বলেন, ‘এরা আসলে চরম অমানুষ, চিটার ও বাটপাড়। এদের মতো ভণ্ড মানুষ ও তরুণ নেতৃত্বকে ধ্বংস বা সোজা করার মতো কোনো আধুনিক মেশিন এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে আবিষ্কার হয়নি।’
বক্তব্যের এক পর্যায়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তীব্র সমালোচনা করে ফজলুর রহমান দাবি করেন, ওই সরকার সুপরিকল্পিতভাবে দেশের চারটি জেনারেশন বা প্রজন্মকে চিরতরে ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যাদের এখনো ৩০ বছর বয়স পার হয়নি, এমন অনভিজ্ঞ তরুণরা উপদেষ্টা হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দেশ-বিদেশে শত শত কোটি টাকা অবৈধভাবে পাচার করেছে।
প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ আক্ষেপ করে বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই জনসম্মুখে বলে আসছেন আমাদের নতুন জেনারেশনটা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এ দেশে একটি সুদূরপ্রসারী আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মাধ্যমে অত্যন্ত গোপন বা গুপ্ত সংগঠন তৈরি করে পরবর্তীতে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল ‘এনসিপি’ গঠন করা হয়েছে।
ফজলুর রহমান আরও বলেন, এই প্রজন্মের তরুণদের মাঝে এখন কোনো পড়াশোনা নেই, মাঠে খেলাধুলা নেই, সুস্থ সংগীত-সংস্কৃতি নেই, এমনকি তাদের মাঝে প্রকৃত ধর্মপালনও নেই। তরুণদের বিপথগামী করার পেছনে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের দায়ী করে তিনি বলেন, তাদের একমাত্র মূল কাজই হলো কীভাবে চক্রান্ত আর গভীর ষড়যন্ত্রের জাল বুনে সাধারণ ছাত্রসমাজকে আবেগ দিয়ে ধোঁকা দিয়ে, বোকা বানিয়ে রাজপথের মিছিলে নামানো যায়।
এই নিরীহ তরুণদের জীবনকে এভাবে অন্ধকারের মুখে ঠেলে দিয়ে তারা মূলত পর্দার আড়ালে নিজেদের আখের গুছিয়েছে এবং বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছে। দেশের সার্বিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও তরুণদের সুন্দর ভবিষ্যৎ ফিরিয়ে আনতে এই ধরণের সুবিধাবাদী ও চক্রান্তকারী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।
তথ্যসুত্রঃ সময়ের আলো