শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। কিছুক্ষণ পর দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সতীর্থরা ছুটে এসে তাকে জড়িয়ে ধরেন। সেই কান্না ছিল শুধু ব্যক্তিগত আবেগ নয়, বরং কেপ ভার্দের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গর্বের মুহূর্তের প্রতিফলন।
বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে চমক দেখিয়েছে কেপ ভার্দে। আর এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়া।
ম্যাচ শেষে আবেগঘন কণ্ঠে ভোজিনিয়া বলেন, ‘আমি কেঁদেছিলাম, কারণ ছোটবেলায় দাদা-দাদির কাছেই বড় হয়েছি। কিন্তু আজ তারা আমার এই মুহূর্তটি দেখতে পারেননি। কয়েক বছর আগে তারা মারা গেছেন। আমার মাও এখানে থাকতে পারেননি। ভিসা জটিলতা ও অর্থের অভাবে সময়মতো সব ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।’
ভোজিনিয়ার এই আবেগ স্পর্শ করেছে ফুটবলপ্রেমীদেরও। বিবিসির বিশ্লেষক ও সাবেক স্কটিশ ফুটবলার প্যাট নেভিন বলেন, ‘পুরো ম্যাচে অসাধারণ খেলেছেন ভোজিনিয়া। ৪০ বছর বয়সে তিনি যা দেখিয়েছেন, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। ম্যাচ শেষে সব ক্যামেরা ছিল তার দিকেই। সতীর্থরাও তাকে দলের প্রকৃত নায়ক হিসেবে তুলে ধরেছেন।’
সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার লি ডিক্সনও প্রশংসা করেছেন কেপ ভার্দের এই গোলরক্ষকের। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছি। এই একটি পয়েন্ট কেপ ভার্দের প্রাপ্য ছিল। আজকের রাতটা তাদের। ভোজিনিয়াকে কাঁদতে দেখে আমারও আবেগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল।’
বিশ্বকাপের মঞ্চে শক্তিশালী স্পেনকে রুখে দিয়ে কেপ ভার্দে যে ইতিহাস গড়েছে, তার প্রতীক হয়ে থাকবেন গোলরক্ষক ভোজিনিয়া।