Home আন্তর্জাতিক যুক্তরাজ্যে শক্তিশালী জীবাণু সংক্রমণ, হাজারো প্রাণহানি

যুক্তরাজ্যে শক্তিশালী জীবাণু সংক্রমণ, হাজারো প্রাণহানি

Share

যুক্তরাজ্যে সুপারবাগস নামে শক্তিশালী জীবাণুর সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। এর ফলে দেশটিতে প্রতিবছর সাড়ে সাত হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

সম্প্রতি দেশটির সরকারি স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) এক প্রতিবেদনের বরাতে বার্তাসংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি বছর যুক্তরাজ্যে প্রায় ৭ হাজার ৬০০ জনের মৃত্যু সরাসরি সুপারবাগসের কারণে হয়। এ ছাড়া আরও ৩৫ হাজার ২০০ মানুষের মৃত্যুর সাথে এর সংযোগ রয়েছে। ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকারের সীমিত অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়েছে।

সুপারবাগস হল ব্যাকটেরিয়া বা রোগজীবাণুর এমন প্রজাতি যা অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে, যার ফলে এগুলোর চিকিৎসা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এটি বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যের জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি হিসেবে স্বীকৃত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়া সিজারিয়ান সেকশন বা জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্টের মতো অস্ত্রোপচার একদিন খুব বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। জাতীয় অডিট অফিসের গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের তুলনায় যুক্তরাজ্যে মানুষের মধ্যে ওষুধ-প্রতিরোধী সংক্রমণ ১৩ শতাংশ বেড়েছে, যদিও এগুলো ১০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের জরাজীর্ণ হাসপাতালগুলো রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)-এর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে, যার ফলে রোগীদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে সংক্রমণের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, এনএইচএসের অবকাঠামো গত কয়েক বছরে মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে। কিছু হাসপাতাল এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান আধুনিক চিকিৎসার চাহিদা পূরণ করতে পারছে না।

যুক্তরাজ্যের বিশাল সংখ্যক জনগণ স্বাস্থ্যসেবার জন্য এনএইচএস-এর ওপর নির্ভরশীল এবং এই পরিষেবার অর্থায়ন একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু। জাতীয় অডিট অফিস বলেছে যে, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এএমআর-এর জন্য একটি কাঠামোগত, আন্তঃসরকারি পদ্ধতি থাকা সত্ত্বেও গত পাঁচ বছরে সীমিত অগ্রগতি হয়েছে।

২০১৯ সালে নির্ধারিত ৫টি অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যের মধ্যে মাত্র একটি পূরণ হয়েছে – খাদ্য উৎপাদনকারী প্রাণীদের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমানো – কিন্তু এটি পরিকল্পনার চেয়ে এক বছর পরে সম্পন্ন হয়েছে।

জাতীয় অডিট অফিসের প্রধান গ্যারেথ ডেভিস বলেছেন যে, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স একটি বড় জনস্বাস্থ্য হুমকি উপস্থাপন করে। তিনি যোগ করেছেন, সরকার প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত ফলাফল সীমিত এবং দেশটিকে এই দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির জন্য আরও সহনশীল হতে হবে।

গত বছর দ্য ল্যানসেট-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, বর্তমান প্রবণতা অনুযায়ী, ২০৫০ সালে বিশ্বব্যাপী সুপারবাগসের সরাসরি কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বছরে ১৯ লাখে বৃদ্ধি পাবে এবং আরও ৮২ লাখ মৃত্যুর সাথে এর সংযোগ থাকবে। গ

বেষণায় দেখা গেছে যে, ২০২১ সালে বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ১১ লাখ মৃত্যু সুপারবাগসের কারণে হয়েছিল এবং ৪৭ লাখ মৃত্যুর সাথে এর সংযোগ ছিল।

Related Articles

ফেসবুকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি বিধান দেশে নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ফেসবুকের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটার বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার...

পুশইন বন্ধে ভারতকে অন্তত ১৩টি চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ভারতের পুশইনের চেষ্টা বিজিবি শক্তভাবে প্রতিহত...

মবতন্ত্র ও উচ্ছৃঙ্খল শ্রেণী রাজনীতিতে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে : যুবদল সভাপতি

বাংলাদেশে মবতন্ত্র ও উচ্ছৃঙ্খল শ্রেণী রাজনীতিতে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে মন্তব্য...

ব্রাজিলের জালে ৭ গোল দিয়ে ইতিহাস গড়েছে যেসব দেশ

বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিল এমন একটি নাম, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য গৌরবগাথা,...