রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দিনের সফরে মঙ্গলবার রাতে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবেন।
চীনের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ দুই নেতার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই দেশ তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়েও মতবিনিময় করবে। এ বছর চীন-রাশিয়া কৌশলগত অংশীদারিত্বের ৩০ বছর এবং বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির ২৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে, যা সম্পর্ক আরও গভীর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দুই দেশের সম্পর্ককে ঘনিষ্ঠ ও নিয়মিত যোগাযোগের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বলা হয়। পুতিন ও শি জিনপিং এখন পর্যন্ত বহুবার বৈঠক করেছেন এবং এটিকে তাদের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবে দেখা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বেড়েছে। চীন রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল ও জ্বালানি আমদানি করছে, যা তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে।
তবে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলেও দুই দেশের নির্ভরতা একপাক্ষিক নয়। চীনের মোট আমদানির একটি ছোট অংশ রাশিয়া থেকে আসে, অন্যদিকে রাশিয়ার জন্য চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার।
চীন ও রাশিয়া উভয়ই পশ্চিমা প্রভাব ও যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের বিরোধিতা করে এবং ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মতো দেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে আসছে।
পুতিনের এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চীন সফরের পরপরই এটি অনুষ্ঠিত হওয়ায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শি জিনপিং ওই আলোচনার তথ্য পুতিনকে জানাতে পারেন।
এছাড়া দুই দেশের মধ্যে বড় একটি গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া–২’ নিয়েও আলোচনা চলছে, যা রাশিয়া থেকে চীনে জ্বালানি সরবরাহ বাড়াবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে পুতিনের জন্য চীনের সঙ্গে সম্পর্ক অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যদিও চীন এককভাবে কোনো দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এড়াতে চায়।