Home জাতীয় ইউএনও আলাউদ্দিন এখন ‘পর্ন তারকা

ইউএনও আলাউদ্দিন এখন ‘পর্ন তারকা

Share

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার সাবেক ইউএনও মো. আলাউদ্দিনকে ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক অন্তরঙ্গ ভিডিও নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। গত ১৬ মার্চ ভিডিওগুলো ভাইরাল হওয়ার পর বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি সামনে আসে।

 

ভিডিওগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর শুরুতে সেগুলোকে ‘এআই দিয়ে তৈরি’ বলে দাবি করেছিলেন আলাউদ্দিন। তবে এশিয়া পোস্টের ফ্যাক্টচেকিং টিম ভিডিওগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েছে, সেগুলো এআই দিয়ে তৈরি করা নয়, প্রতিটি ভিডিও আসল। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধানে উঠেও এসেছে একই তথ্য। তাদের দাবি, যাচাইয়ে পাওয়া ফুটেজগুলো বাস্তব এবং অন্তত কয়েকটি ভিডিও নিশ্চিতভাবে একই ব্যক্তির।

 

ভিডিও প্রকাশের পর প্রশাসনিকভাবেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাকে ইউএনও পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।

 

দ্য ডিসেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ১০টি ভিডিও যাচাই করা হয়েছে, যেখানে কয়েকজন নারীর সঙ্গে আলাউদ্দিনকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়। এসব ফুটেজ প্রায় দুই বছর আগে ধারণ করা বলে ধারণা করা হচ্ছে, যখন তিনি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় কর্মরত ছিলেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিডিওগুলো তার ব্যক্তিগত ডিভাইস থেকে সংগ্রহ করে পরে বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

ভিডিওগুলো ভাইরাল হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পর্ণ ওয়েবসাইট ও টেলিগ্রাম গ্রুপে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক দিনের মধ্যেই বিপুল সংখ্যক ভিউ অর্জন করে এসব কনটেন্ট।

গুগলে সার্চ করে দেখা গেছে, এই ভিডিওগুলো অন্তত ১৯টি পৃথক আন্তর্জাতিক পর্ন ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে গত তিন দিনে। ভিডিওগুলো ইতোমধ্যে এসব সাইটে কয়েক লাখ বার ভিউ হয়েছে।

এসব ওয়েবসাইটে আপলোড হওয়া ভিডিওগুলোতে আলাউদ্দিনকে অন্তত তিনজন ভিন্ন নারীর সঙ্গে দেখা যায়। কিছু ক্ষেত্রে ইউএনও নাম ব্যবহার করে ভিডিও আপলোড করা হলেও কিছু ক্ষেত্রে ভিন্ন নাম ও শিরোনামে প্রকাশ করা হয়েছে। ভিডিওগুলো সংশ্লিষ্ট নারীদের চেহারা উন্মুক্ত অবস্থায় রয়েছে।

গুগল ট্রেন্ডস এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে গত তিনদিনে বাংলাদেশ থেকে আলাউদ্দিন সংক্রান্ত ভিডিওগুলো বিভিন্ন কীওয়ার্ড দিয়ে গুগলে সার্চ করে দেখা হচ্ছে।

আইনজীবীরা বলছেন, এ ধরনের ভিডিও ধারণ ও সংরক্ষণ বাংলাদেশের আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ।

ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মেহেদী হাসান ভুঁইয়ার বরাত দিয়ে দ্য ডিসেন্ট জানায় এ ব্যাপারে আদালত চাইলে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২ অনুযায়ী পাশাপাশি সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর আওতাতেও ব্যবস্থা নিতে পারে।

তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীরা চাইলে মামলা করতে পারবেন, এমনকি রাষ্ট্র নিজ উদ্যোগেও আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে। ভিডিও ধারণকারী ছাড়াও যারা তা ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তথ্যসুত্রঃ এশিয়া পোস্ট

Related Articles

রাশিয়ার শ্রমবাজারে ১ লাখ কর্মী পাঠাতে চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ও রাশিয়া জনশক্তি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে ব্যাপকভাবে কাজ করছে। এর অংশ...

ফেসবুকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি বিধান দেশে নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ফেসবুকের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটার বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার...

পুশইন বন্ধে ভারতকে অন্তত ১৩টি চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ভারতের পুশইনের চেষ্টা বিজিবি শক্তভাবে প্রতিহত...

মবতন্ত্র ও উচ্ছৃঙ্খল শ্রেণী রাজনীতিতে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে : যুবদল সভাপতি

বাংলাদেশে মবতন্ত্র ও উচ্ছৃঙ্খল শ্রেণী রাজনীতিতে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে মন্তব্য...