আর কয়েক ঘণ্টা বাদেই টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এবারের বিশ্বকাপে দলটির ৩৯ বছরে পা রাখতে যাওয়া ফরোয়ার্ড লিওনেল মেসিকে ঘিরে বাড়ছে আলোচনা।
অনেকেই এটিকে তার শেষ বিশ্বমঞ্চ বলেই মনে করছেন। তবে বয়সের সীমা পেরিয়েও তিনি আবারও ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় লেখার অপেক্ষায়। আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামলেই নতুন ইতিহাসের অংশ হয়ে যেতে পারেন লিওনেল মেসি।
আর্জেন্টিনার এই অধিনায়ক খেললে বিশ্বকাপ ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি আসরে অংশ নেওয়ার অনন্য রেকর্ড গড়বেন তিনি।
পাঁচটি আসরে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলছেন লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং গুইলারমো ওচোয়া। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মেক্সিকোর মূল একাদশে গুইলারমো ওচোয়া মাঠে নামেননি।
এছাড়া পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর প্রথম ম্যাচ কঙ্গোর বিপক্ষে আগামীকাল বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে।
ফলে বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এককভাবে এই রেকর্ডটি গড়বেন মেসি।
কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে গ্রুপ জে’র ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশে মেসির থাকা প্রায় নিশ্চিত বলেই জানা গেছে। মাঠে নামলেই ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২-এর পর ষষ্ঠ বিশ্বকাপের সাক্ষী হবেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপ দিয়ে শুরু হওয়া তার বিশ্বমঞ্চের যাত্রা দুই দশক পেরিয়ে এখনো সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, রাশিয়া ও কাতার—প্রতিটি আসরেই তিনি ছিলেন আর্জেন্টিনার মূল ভরসা।
বিশেষ করে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা দীর্ঘ ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায়। ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং সাত গোলের টুর্নামেন্ট তাকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে আরও নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করে।
এই আসরে মেসির সামনে রয়েছে একাধিক ঐতিহাসিক মাইলফলক। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে ২৬ ম্যাচ খেলে তিনি ইতোমধ্যেই সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ডের মালিক। আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামলে সেই রেকর্ড আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছে যাবে।
একই সঙ্গে এটি হবে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ২০০তম ম্যাচ, যা তাকে বিশ্বের মাত্র তিনজন ফুটবলারের এক অভিজাত ক্লাবে নিয়ে যাবে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং কুয়েতের বাদের আল-মুতাওয়ার পর তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করবেন তিনি।
আর্জেন্টিনার হয়ে ১০ নম্বর জার্সি গায়ে খেলছেন মেসি, যা এবার তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপে পঞ্চমবারের মতো। এই কীর্তিতে তিনি ছাড়িয়ে যাবেন দিয়েগো ম্যারাডোনাকে, যিনি চারটি বিশ্বকাপে ১০ নম্বর জার্সি পরেছিলেন।
গোলের দিক থেকেও ইতিহাসের দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন মেসি। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তার গোল সংখ্যা ১৩। সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ডধারী মিরোস্লাভ ক্লোসার থেকে মাত্র তিন গোল পিছিয়ে তিনি। ফলে এই আসরেই নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
২০০৬, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে গোল পাওয়া মেসি যদি এবারও গোল করেন, তবে পাঁচটি পৃথক বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি গড়বেন, যা ইতোমধ্যে রয়েছে কেবল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর।
অ্যাসিস্টের দিক থেকেও তিনি সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপে তার অ্যাসিস্ট সংখ্যা আট, যা যৌথভাবে আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আর একটি অ্যাসিস্ট করলেই তিনি এককভাবে শীর্ষে উঠে যাবেন।
সবচেয়ে বড় বিষয়, অধিনায়ক হিসেবে মেসির সামনে রয়েছে আরও একটি ঐতিহাসিক অর্জনের সুযোগ—দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়। যদি আর্জেন্টিনা আবারও শিরোপা জেতে, তবে তিনি হবেন ইতিহাসের প্রথম অধিনায়ক যিনি দুইটি বিশ্বকাপ জিতেছেন।
২০০৬ থেকে ২০২৬—দুই দশকের এই বিশ্বকাপ যাত্রায় মেসি এখন দাঁড়িয়ে আছেন ইতিহাসের এক অনন্য মোড়ে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামা তাই শুধু একটি ম্যাচ নয়, বরং আরও একটি সম্ভাব্য ইতিহাস রচনার সূচনা।