আজ ৯ জুন। এ দিনটি আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসি সমর্থকদের জন্য বিশেষ এক দিন। ২০১২ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। প্রীতি ম্যাচ হলেও দুই লাতিন পরাশক্তির সেই লড়াই ফুটবল ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে মূলত লিওনেল মেসির অবিশ্বাস্য হ্যাটট্রিকের কারণে।
ইউরো ২০১২ চলাকালে জার্মানি-পর্তুগাল ম্যাচের মতো আকর্ষণীয় লড়াই থাকা সত্ত্বেও মেটলাইফ স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়েছিলেন ৮০ হাজারের বেশি দর্শক। সবার আগ্রহের কেন্দ্রে ছিলেন দুই প্রজন্মের দুই তারকা লিওনেল মেসি ও নেইমার।
ম্যাচের আগে নেইমারকে নিয়ে পেলে ও ডিয়েগো ম্যারাডোনার মন্তব্যও আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। পেলে যেখানে নেইমারকে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন, সেখানে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, নেইমার বিশ্বের সেরা হতে পারে, যদি মেনে নেওয়া হয় যে মেসি এই পৃথিবীর মানুষ নন। মাঠে নেমে যেন সেই কথারই প্রমাণ দেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
২৩ মিনিটে নেইমারের ফ্রি-কিক থেকে রোমুলোর গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। তবে বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকতে হয়নি আর্জেন্টিনাকে। ৩১ মিনিটে গনসালো হিগুয়াইনের পাস থেকে সমতা ফেরান মেসি। তিন মিনিট পর আনহেল দি মারিয়ার পাস কাজে লাগিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলও করেন তিনি। আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে।
দ্বিতীয়ার্ধে পাল্টা জবাব দেয় ব্রাজিল। ৫৬ মিনিটে অস্কার এবং ৭২ মিনিটে হুল্ক গোল করে সেলেসাওদের ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। তবে ৭৫ মিনিটে ফেদেরিকো ফার্নান্দেজের হেডে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা।
এরপর আসে সেই মুহূর্ত, যা আজও ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে অমলিন। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে মাঝমাঠের কাছ থেকে বল পেয়ে একক নৈপুণ্যে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ ভেঙে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ-পায়ের দুর্দান্ত শটে জালে বল জড়ান মেসি। অসাধারণ সেই গোলেই পূর্ণ হয় তার হ্যাটট্রিক এবং নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার ৪-৩ গোলের জয়। গোলের পর উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে মেটলাইফ স্টেডিয়াম।
এটি ছিল ১৯৮২ সালের পর ব্রাজিলের বিপক্ষে কোনো আর্জেন্টাইন ফুটবলারের প্রথম হ্যাটট্রিক। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসির দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকও।
ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার তৎকালীন কোচ আলেহান্দ্রো সাবেয়া বলেছিলেন, ‘আমরা ভাগ্যবান যে মেসি আর্জেন্টাইন। তার অসাধারণ প্রতিভার সুফল আমরা পাচ্ছি।’
১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও ব্রাজিলের বিপক্ষে মেসির সেই জাদুকরী হ্যাটট্রিক এবং আর্জেন্টিনার রোমাঞ্চকর জয় এখনও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে আছে।