Home প্রচ্ছদ জাকিরের বিরুদ্ধে দুদকে গুরুতর অভিযোগ, হারাতে পারেন দলীয় পদ

জাকিরের বিরুদ্ধে দুদকে গুরুতর অভিযোগ, হারাতে পারেন দলীয় পদ

Share

বিপুল হারে চাঁদাবাজি, ফ্যাসিস্ট সরকার আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি সাহাদারা মান্নানের অবৈধ সম্পদের পাহারাদার ও শত শত কোটি টাকার সম্পদ দখলের অভিযোগে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকিরের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ করা হয়েছে। একই সাথে তার জ্ঞাত আয় বহিঃর্ভূত সম্পদ অনুসন্ধান পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করতেও আবেদন জানানো হয়েছে। এসব অভিযোগের কারণে সোনাতলা উপজেলা বিএনপি সভাপতির পদ হারাতে পারেন আহসানুল তৈয়ব জাকির।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর এক লিখিত অভিযোগে এসব তুলে ধরা হয়।

সেখানে বলা হয়, বগুড়ার সর্বজন স্বীকৃতি চাঁদাবাজ ও দখলবাজ সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহসানুল তৈয়ব জাকির ৫ আগস্টের পর থেকে শতশত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। শেখ হাসিনার পতনের পর বগুড়া-১ আসনের সাবেক এমপি সাহাদারা মান্নানের অবৈধ সকল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ এই জাকিরের হাতে। সোনাতলা-সারিয়াকান্দির কয়েক লাখ মানুষের জীবন হুমকির মুখে ফেলে অর্ধ শতাধিক অবৈধ বালুমহলের নিয়ন্ত্রণ ও দুই শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, দুই উপজেলার অন্তত ৫০ টিরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্য, উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ডে দখলদারিত্ব ও কাজ বন্ধ করে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করে আসছে। চাঁদা না দিলে একাধিক প্রজেক্ট বন্ধ করে দেয়ারও নজির আছে। যা বিভিন্ন সময় জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ আকারে উঠে এসেছে।

জাকিরের বিরুদ্ধে পরিবারতন্ত্র কায়েমের অভিযোগ তুলে আরও বলা হয়েছে, সোনাতলা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজের সভাপতি জাকিরের ভাই আহসান মমিনুল সোহেল, ড. এনামুল হক ডিগ্রী কলেজের সভাপতি তার ভাগ্নে আহসান হাবিব রতন, বালুয়াহাট ডিগ্রী কলেজের সভাপতি তার আরেক ভাই আহসান হাবিব মোহন,সোনাতলা ফাজিল মাদ্রাসার সভাপতি আরেক ভাই আহসান হাবিব রাজাসহ স্থানীয় প্রত্যেকটা স্কুল কলেজের সভাপতি পদ তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠ জনদের দখলে রয়েছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আওয়ামী পন্থী শিক্ষক ও কর্মচারীদের চাকরিতে ডিস্টার্ব না করা শর্তে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করেছেন জাকির।

এছাড়া সোনাতলা উপজেলায় সংখ্যালঘুসহ স্থানীয়দের বাড়ি, জায়গাজমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল,শিক্ষকের জায়গা দখল করে নিজের বাবার নামে কলেজ বানানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রতিবাদ করলে ঐ শিক্ষককে উল্টো মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করেন জাকির। ঘোড়াপীর মাজারের জমি দখল,থানার পাশে প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের খাস জমি দখল এবং সম্প্রতি পৌরসভার ৯ কোটি টাকার টেন্ডার জোরপূর্বক নেন তিনি।

এদিকে ওই অভিযোগপত্রেই ২০০৩ সালের একটি ঘটনার কথা তুলে বলা হয়েছে. ওই বছর আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ‘কেয়ার বাংলাদেশ’ এর এক গর্ভবতী নারী কর্মীর পেটে লাথি মারেন জাকির। এতে তার সন্তান গর্ভেই মারা যায়। সেই ঘটনার রেশ ধরেই কেয়ার বাংলাদেশ তাদের কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়।

জাকিরকে সোনাতলা উপজেলাবাসীর জন্য আতঙ্কের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকিরের অর্জিত অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে এলাকাবাসী।

Related Articles

বগুড়ার বৃহত্তর ভস্তা ঈদগাঁ মাঠের নতুন কমিটি গঠন

সিনিয়র সাংবাদিক ইসহাক আসিফকে উপদেষ্টা করে শেরপুর উপজেলার বৃহত্তর ভস্তা ঈদগাঁ মাঠের...

ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করলেন তারেক রহমান

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ক্ষমতা গ্রহণের ২০ দিনের মাথায় ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করলেন...

ঢাবিতে তোফাজ্জল হত্যা, ২২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে তোফাজ্জল নামের মানসিক...

নারীর অগ্রযাত্রা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব: মির্জা ফখরুল

নারীদের পেছনে রেখে কোনোভাবেই জাতীয় লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন...