স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর প্রধান প্রকৌশলী পদে মো: আব্দুর রশিদ মিয়ার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ২৮ মার্চ বাতিলের পর পদটি বর্তমানে শূন্য রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে গ্রেড-২ প্রধান প্রকৌশলী মো: বেলাল হোসেনকে পদোন্নতির মাধ্যমে পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনায় এসেছে।
এর আগে ২৪ মার্চ রশিদ মিয়াকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হলেও চার দিনের মাথায় সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে সরকার। এরপর থেকে এলজিইডির অভ্যন্তরে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে পদোন্নতির মাধ্যমে পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে মো: বেলাল হোসেন প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-২) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রায় তিন মাস অতিবাহিত হলেও গ্রেড-১ শূন্যপদে তাকে পদোন্নতির মাধ্যমে পূর্ণ দায়িত্ব না দেওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা বেলাল হোসেন ১৯৯২ সালে এলজিইডিতে যোগদান করেন। এর আগে তিনি ডুয়েট, গাজীপুরে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শিক্ষা জীবনে তিনি রুয়েট থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
চাকরি জীবনে তিনি মাঠ পর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। গাইবান্ধা ও নীলফামারীতে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্পৃক্ত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিগত সরকারের আমলে দায়িত্ব পালনকালে; তাদের দলীয় নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারকে কাজ না দেওয়ায় বিভিন্ন সময়ে শাস্তি স্বরূপ বদলির সম্মুখীন হন।
এছাড়া এলজিইডির একাধিক প্রকল্পে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি, যার মধ্যে ঘাঘট লেক উন্নয়ন প্রকল্প এবং নারায়ণগঞ্জের কদম রসুল ব্রিজ নির্মাণ উল্লেখযোগ্য। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এসব প্রকল্পে তিনি দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেছেন।
পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে প্রশাসন, নকশা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেন।
এ অবস্থায় এলজিইডির কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জ্যেষ্ঠতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মো: বেলাল হোসেনকে পদোন্নতির মাধ্যমে পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অনেকে মনে করছেন।