বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) দিতে হবে বলে একটা রাজনৈতিক দল চিৎকার করে যাচ্ছে। তারা বলছে, পিআর না হলে নির্বাচন হবে না। অনেক হুংকারও দিয়েছে। এখন আবার সুর নরম হয়ে গেছে। এখন দেখা যাচ্ছে নির্বাচনের জন্য চতুর্দিকে দৌড়ঝাঁপ চলছে। এগুলো ঠিক নয়।’ শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মাল্টিপারপাস হলে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব কথা বলেন তিনি।
‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষার কেয়ারটেকারগণের দেশ ও জাতি গঠনে অগ্রণী ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভা আয়োজন করে মসজিদভিত্তিক উপানুষ্ঠানিক শিক্ষক কার্যক্রম (মউশিক) কেয়ারটেকার কল্যাণ পরিষদ।
ঐকমত্য কমিশন যে পিআর পদ্ধতির কথা বলেছে সেটি সাধারণ মানুষ ঠিকমতো বোঝে না বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘এই যে পিআর, এটা কয়জন মানুষ বুঝে? আপনারা তো সাধারণ মানুষের সঙ্গে চলাফেরা করেন। এটার সঙ্গে দেশের মানুষ পরিচিত না। তারা বোঝে, ওয়ান ম্যান ওয়ান ভোট। একজন ব্যক্তি দাঁড়াবে, তার মার্কা থাকবে, আমি ভোট দেব, এটাই আমরা সব সময় সেই আদিকাল থেকে দেখে আসছি। এখন আপনি এটাকে পরিবর্তন করবেন তার জন্য আবার গণভোট করবেন। গণভোটে থাকবে হ্যাঁ, না। এখন গণভোটে নাকি চারটা প্রশ্ন থাকবে। চারটা প্রশ্ন একটা গণভোটের ব্যালটে। এটা মানুষ কিছু এখন পর্যন্ত বুঝতেই পারছে না। শেষ দিন পর্যন্ত বুঝতেও পারবে না।’
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামের টিকিট (ভোট) কাটলে জান্নাতের টিকিট কাটা হবে– এ কথা কোথায় আছে আমাকে বলুক তারা, দেখিয়ে দিক কোথায় আছে। ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা নিয়ে নেওয়ার কথা ইসলাম সমর্থন করে না। এই কথাগুলো আমি এ জন্যই বলছি, যে এগুলো সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কথাগুলো বলছে সবাই। এই কথাগুলো আজকে জনগণের সামনে আসা উচিত।’
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর শাহ্ মো. নেছারুল হক। সঞ্চালনা করেন মসজিদভিত্তিক উপানুষ্ঠানিক শিক্ষক কার্যক্রম (মউশিক) কেয়ারটেকার কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মো. জবাইদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান। সভায় আরও বক্তব্য দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক (অব.) মুহাম্মদ রফিক উল ইসলাম, শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সফিকুর রহমান কিরণ, ঢাকার রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।