নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে আজ শনিবার চট্টগ্রামে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ রাত ৭টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা থেকে বিমানযোগে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।
আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর গুলশানের বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমীন।
ত্রয়োদশ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপত্র বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনী জনসংযোগে সমাবেশের অংশ নিতে আজ রাতেই বিমানযোগে যোগে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। রাত ৭টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা থেকে বিমানযোগে চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন এবং সেখানেই রাত্রি যাপন করবেন।
মাহদী আমীন জানান, আগামীকাল রোববার অর্থাৎ, ২৫ জানুয়ারি সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রামের স্থানীয় একটি হোটেলে তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০০ জন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘ইউথ পলিসি টকে’ অংশগ্রহণ করবেন। এই পলিসি টকে তিনি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কৃষি, স্বাস্থ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপির পলিসি নিয়ে আলোচনা করবেন। মত বিনিময় করবেন। তরুণ তরুণীদের আকাঙ্ক্ষা এবং পরামর্শকে ধারণ করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
তিনি আরও জানান, আগামীকাল তারেক রহমানের প্রথম নির্বাচনী সমাবেশ হবে চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ডে বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে। বিকেলে তিনি ফেনীতে যাবেন। সেখানে ফেনী পাইলট স্কুল খেলার মাঠে বিকেল চারটায় জনসভায় যোগ দেবেন তিনি। এরপর বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠে আরেকটি জনসভায় তারেক রহমানের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। কুমিল্লায় আরও দুটি জনসভা করবেন তিনি। এর একটি সন্ধ্যা সাতটায় অনুষ্ঠিত হবে সুয়াগাজী ডিগবাজির মাঠে। অন্যটি সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে দাউদকান্দির কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে।
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপত্র আরও জানান, কুমিল্লা থেকে ঢাকায় ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জে এসে একটি জনসভায় যোগ দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান। এই জনসভা রাত সাড়ে ১১টায় কাঁচপুর বালুর মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দিনভর কর্মসূচি শেষে জনাব তারেক রহমান ঢাকা গুলশানে তার নিজস্ব বাসভবনে রাতে পৌঁছাবেন। সিলেট সফরের মতো এই সফরেও বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের ত্যাগী নেতাদের একাংশ উনার সফরসঙ্গী হবেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমীন বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের খুব প্রভাবশালী একজন নেতা ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির বিষয়ে যে দাবিটি করেছেন। তিনি একটি মিডিয়ার কথা বলেছেন। স্বাভাবিকভাবে, তার স্বপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। আর কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারবেন তো না। কারণ, যে তথ্য মিডিয়ায় এসেছে বলে তিনি দাবি করেছেন। সেটির ন্যূনতম কোনো বাস্তবতা নাই। ন্যূনতম কোনো সত্যতা নাই।
মাহাদী আমিন বলেন, বিতর্ক তৈরি করার জন্য এটি একটি রাজনৈতিক অপকৌশল। আর যদি উনাকে ভুল তথ্য প্রদান করা হয় বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য করা হয়। তাহলে সেটা উনার অজ্ঞতা। আমরা মনে করি, এটা অপকৌশল বা অজ্ঞতা যেটিই হোক ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তির বিষয়ে যেসব কথা বলা হচ্ছে; তা সম্পূর্ণরূপে অপপ্রচার।
তিনি আরও বলেন, আমরা গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষী বলতে সেটাই বুঝি যে, এখানে ইতিবাচক রাজনীতি হবে। কোনো অপপ্রচার, অপরাজনীতি সেটা হওয়া উচিত না। কারণ, বিএনপির রাজনীতি মানেই তো বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি। আমাদের নেতা তারেক রহমানের যে রাজনীতি; সেখানে হচ্ছে সবার আগে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের স্বার্থ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব জনগণের ক্ষমতা এটিকে কেন্দ্র করেই তো বিএনপির রাজনীতি।
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যানের এই উপদেষ্টা বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ডের নামে যদি কেউ কোনো টাকা পয়সা দাবি করে; সেটা একেবারে অনাকাঙ্ক্ষিত।
বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, একটি প্রতারক চক্র বিতর্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার নামে কিছু কিছু জায়গায় টাকা চাচ্ছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নারীর ক্ষমতা এবং কৃষকের সমৃদ্ধির জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদানের যে পরিকল্পনা ইতিমধ্যে; তা দেশব্যাপী আলোচিত হয়েছে, সমাদৃত হয়েছে। বিএনপি যদি জনগণের ভোটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়, ইনশআল্লাহ। তখন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং যথাযথ ব্যক্তিদের হাতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে এই কার্ডগুলো পৌঁছে দেওয়া হবে। যদি কেউ এই বিষয়ে কোনো অসাধু উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করে সেক্ষেত্রে আপনারা আমাদেরকে অবহিত করবেন এবং অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্মরণ হবেন।