যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ একসময় তার ওপর বিরক্ত হয়ে পড়লে ইসরায়েলে চলে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন তিনি।
ইসরায়েলে নিজের জনপ্রিয়তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, সেখানে তার অনুমোদনের হার ৯৯ শতাংশ। ইতিহাসে কারও এত বেশি অনুমোদন ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এক নম্বরে… ইসরায়েলে আমার অনুমোদনের হার ছিল ৯৯ শতাংশ। বিশ্বাস করতে পারেন? আসলে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ কখনো আমার ওপর বিরক্ত হয়ে গেলে আমি ইসরায়েলে চলে যাব এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী হব।’
ইরানের বিরুদ্ধে তার প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপের কারণেই ইসরায়েলে তার জনপ্রিয়তা বলে দাবি করেন ট্রাম্প। ফার্স্ট পোস্টের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস অনুষ্ঠানে ফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, চলতি বছরের শেষ দিকে ইসরায়েলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক ৪০০ কোটি ডলারের সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। তার যুক্তি, ইসরায়েলের এখন আর এ সহায়তার প্রয়োজন নেই। ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের এ অর্থের প্রয়োজন নেই।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরুর দিন রিপাবলিকানদের পক্ষে প্রচারও চালান ট্রাম্প। ভোটারদের উদ্দেশে দেওয়া শেষ বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমাদের আমেরিকাকে মহান রাখতে হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রকে একসময় ‘উপহাসের পাত্র’ থেকে বিশ্বের ‘সবচেয়ে আলোচিত দেশ’ হিসেবে গড়ে তোলার দাবিও করেন তিনি।
ট্রাম্পের ইসরায়েলে চলে যাওয়ার মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচক ও বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। টেনেসি হলার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছে, ‘ট্রাম্প আমাদের ভালো সময়ের হুমকি দিচ্ছেন।’
ট্রাম্পের সমালোচক হিসেবে পরিচিত জর্জ কনওয়ে লিখেছেন, ‘প্রস্তাবটি যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, ইসরায়েলের ওপর এমন পরিস্থিতি চাপিয়ে দেওয়া ইহুদিবিদ্বেষের চরম রূপ হবে, যা আমাদের সব ধরনের ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। সৌভাগ্যবশত, পৃথিবীতে আরও অনেক দেশ আছে (কে জানত!), এমনকি অনেক “জঘন্য” দেশও আছে, যেখানে তিনি যেতে পারেন।’
জেটিওর প্রধান নির্বাহী ও এমএস নাউয়ের সাবেক উপস্থাপক মেহদি হাসান লিখেছেন, ‘বিশ্বাসই হচ্ছে না, তিনি কথাটি প্রকাশ্যে বলেছেন।’ এরপর তিনি আরও লেখেন, ‘ফক্স নিউজে। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে এক মুহূর্তে তুলে ধরেছে এটি।’