দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন। এর আগে টানা সাতজন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন।
১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক পথচলা অবশ্য সরাসরি দলীয় রাজনীতি দিয়ে শুরু হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়ার সময় তিনি ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন তিনি।
১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন মির্জা ফখরুল। ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে অর্থনীতি পড়িয়েছেন। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এসএ বারীর ব্যক্তিগত সচিবের দায়িত্ব পান। পরে আবার শিক্ষকতায় ফিরে যান।
১৯৮৬ সালে শিক্ষকতা ছেড়ে পুনরায় রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধীরে ধীরে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে উঠে আসেন।
জাতীয় রাজনীতিতে তার বড় নির্বাচনী সাফল্য আসে ২০০১ সালে। ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে খালেদা জিয়ার সরকারের কৃষি প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৯ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হওয়ার পর তিনি বিরোধী দলের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন। ২০১১ সালে তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলওয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর মির্জা ফখরুল ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। ২০১৬ সালের জাতীয় সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হন।
এরপর দীর্ঘ সময় রাজপথের আন্দোলন, মামলা ও কারাবাস তার রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। আন্দোলন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তাকে একাধিকবার গ্রেফতার ও কারাবরণ করতে হয়েছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, বিরোধী দলের নেতৃত্ব এবং দলীয় রাজনীতির নানা সংকট পেরিয়ে এবার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসছেন মির্জা ফখরুল। রাজপথের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে তার এই যাত্রা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের অধ্যায় হয়ে থাকল।