ফুটবল বিশ্ব বুঁদ হয়ে আছে ২০২৬ বিশ্বকাপের উন্মাদনায়, যার গ্রুপ পর্বের রোমাঞ্চকর লড়াই এখন শেষের পথে। অনেক দলই ইতোমধ্যে নিশ্চিত করে ফেলেছে নকআউটের টিকিট; কেউ শেষ বত্রিশে নিজেদের প্রতিপক্ষের অপেক্ষায় দিন গুনছে, আবার কেউবা ইতোমধ্যেই জেনে গেছে কার মুখোমুখি হতে হবে। বিশ্বমঞ্চের এই নকআউট পর্বের মহালড়াইয়ে এবার পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে এশিয়ান পরাশক্তি জাপান।
টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুসারে, ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল নকআউট পর্বে মুখোমুখি হবে ‘এফ’ গ্রুপের রানার্সআপ বা দ্বিতীয় স্থানে থাকা দলের। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সুইডেনের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে ‘এফ’ গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে শেষ বত্রিশে পা রেখেছে ব্লু সামুরাইরা। ফলে আগামী ২৯ জুন শেষ ষোলোয় ওঠার বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে জাপান ও ব্রাজিল। হিউস্টনে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হবে হাইভোল্টেজ এই ম্যাচটি।
কাগজে-কলমে কিংবা মাঠের শক্তিমত্তায় এশিয়ান প্রতিনিধিদের চেয়ে অনুমিতভাবেই বেশ এগিয়ে আছে সেলেসাওরা। বর্তমানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিলের অবস্থান যেখানে ৬ নম্বরে, সেখানে জাপানের অবস্থান ১৮-তে। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস ঘাঁটলেও দেখা যায় যোজন যোজন ব্যবধান। আন্তর্জাতিক ফুটবলে দল দুটি এখন পর্যন্ত ১০ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে ৭টি ম্যাচেই শেষ হাসি হেসেছে ব্রাজিল। বাকি ম্যাচগুলোর মধ্যে দুটি ড্র হলেও একটি ম্যাচে জয় পেয়েছিল এশিয়ান জায়ান্টরা। আর জাপানের সেই একমাত্র ঐতিহাসিক জয়টি এসেছিল দুই দলের সর্বশেষ দেখাতেই, যা এই ম্যাচে ব্লু সামুরাইদের বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত সেই প্রীতি ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চমকে দিয়ে ৩-২ ব্যবধানে জিতেছিল জাপান। এবারের বিশ্বকাপে জাপানের স্কোয়াডে সেই ঐতিহাসিক জয়ের সিংহভাগ ফুটবলার উপস্থিত থাকায়, বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলকে যে বেশ কঠিন পরীক্ষার মুখেই পড়তে হবে, তা বলাই বাহুল্য।
চলতি বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পথচলা শুরু হয়েছিল মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলের হতাশাজনক ড্র দিয়ে। তবে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে পরের দুই ম্যাচে হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে সমান ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে নকআউটে আসে তারা। অন্যদিকে, জাপানের বিশ্বকাপ মিশনও শুরু হয়েছিল নেদারল্যান্ডসের সাথে ২-২ গোলের ড্রয়ের মধ্য দিয়ে। তবে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে শক্তিমত্তার জানান দেয় হাজিমে মোরিয়াসুর শিষ্যরা। আর শেষ ম্যাচে সুইডেনের সাথে ১-১ গোলে ড্র করে রানার্সআপ হিসেবে গ্রুপ পর্বের মিশন শেষ করে তারা। এখন দেখার বিষয়, নকআউটের এই অগ্নিপরীক্ষায় শেষ হাসি কারা হাসে-ব্রাজিলিয়ান সাম্বা নাকি জাপানি সামুরাই জাদু!