সন্তান জন্মের পর একজন নারীর জীবনে আসে নানা পরিবর্তন। শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক- সব ক্ষেত্রেই নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। কিন্তু এই সময়টিতে সহানুভূতির বদলে অনেক নারীকে মোকাবিলা করতে হয় অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য ও বডি শেমিংয়ের। এমন বাস্তবতা নিয়েই এবার সরব হয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী কিয়ারা আদভানি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মাতৃত্ব-পরবর্তী জীবন নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন তিনি। অভিনেত্রীর মতে, গর্ভাবস্থায় একজন নারীকে ঘিরে প্রশংসার শেষ থাকে না, কিন্তু সন্তান জন্মের পর একই মানুষদের কাছ থেকেই শুরু হয় শরীর নিয়ে সমালোচনা।
কিয়ারা বলেন, গর্ভবতী অবস্থায় সবাই নারীর সৌন্দর্য ও উজ্জ্বলতা নিয়ে প্রশংসা করে। কিন্তু সন্তান জন্মের পরপরই সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। তখন অনেকেই নারীর ওজন, চেহারা বা শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে মন্তব্য করতে শুরু করেন, যা একজন নতুন মায়ের জন্য মানসিকভাবে কষ্টদায়ক হতে পারে।
তার ভাষ্য, মাতৃত্ব তাকে জীবনের প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে। একজন মা হওয়ার অভিজ্ঞতা শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি একজন মানুষকে আরও সংবেদনশীল ও পরিণত করে তোলে। এই পরিবর্তন তার অভিনয় ও পেশাগত জীবনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্বাস করেন তিনি।
অভিনেত্রীর মতে, সন্তান জন্মের পরই একজন নারীর সবচেয়ে বেশি সমর্থন প্রয়োজন হয়। কারণ এই সময়টাতে তাকে একইসঙ্গে শারীরিক পুনরুদ্ধার, মানসিক পরিবর্তন এবং সন্তানের দায়িত্ব সামলাতে হয়। অথচ সমাজ অনেক ক্ষেত্রে তার প্রতি অযৌক্তিক প্রত্যাশা তৈরি করে- যেন খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি আগের শারীরিক গঠনে ফিরে যাবেন।
মাতৃত্ব-পরবর্তী নারীদের প্রতি আরও সহমর্মী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে কিয়ারা বলেন, একজন নতুন মাকে বিচার না করে তার পাশে দাঁড়ানোই উচিত। কারণ মাতৃত্ব কোনো প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি একজন নারীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং অধ্যায়।
উল্লেখ্য, গত বছর অভিনেতা সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও কিয়ারা দম্পতির ঘরে কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। বর্তমানে মাতৃত্বের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি নতুন চলচ্চিত্র টক্সিকের কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন, যেখানে তার সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন যশ।