সিলেটের চা-বাগান ঘেরা সবুজ স্টেডিয়ামে আজ রূপকথার গল্প লিখলেন মুশফিকুর রহিম। তার রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরি আর লিটন দাসের নান্দনিক ব্যাটিংয়ে ভর করে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রানের পাহাড় গড়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের ৪৬ রানের লিডসহ পাকিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়িয়েছে ৪৩৭ রান। চতুর্থ ইনিংসে সিলেটের ভাঙন ধরা উইকেটে এই রান তাড়া করা যেকোনো দলের জন্যই অলৌকিক কিছু। তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হতে তখনো বাকি ১০ ওভার, আর তখনই অলআউট হয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
দিনের শুরুটা অবশ্য খুব একটা স্বস্তির ছিল না স্বাগতিকদের জন্য। আগের দিনের ৩ উইকেটে ১১০ রান নিয়ে খেলা শুরু করার পর দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত (১৫)। ১৬২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন কিছুটা চাপে, তখনই হাল ধরেন দলের দুই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান—মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস।
পঞ্চম উইকেটে এই দুজন গড়েন ৮৮ রানের দারুণ এক জুটি। প্রথম সেশনে পাকিস্তানি বোলারদের কোনো সুযোগ না দিয়ে দলকে মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে নিয়ে যান তারা। বিরতি থেকে ফিরেই খুররম শাহজাদকে দুর্দান্ত এক কাভার ড্রাইভে বাউন্ডারি মেরে টেস্ট ক্যারিয়ারের ২০তম ফিফটি পূর্ণ করেন লিটন। অবশ্য ৫৫ রানে সাজিদ খানের হাতে জীবন পেয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৯২ বলে ৫টি চারের সাহায্যে ৬৯ রান করে হাসান আলীর বলে সৌদ শাকিলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই স্টাইলিশ ওপেনার।
আজকের দিনটি শুধুই নিজের করে নিয়েছেন ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ মুশফিকুর রহিম। চলতি মাসের ২৬ তারিখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২১ বছর পূর্ণ করতে যাওয়া এই তারকা আজ অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করেন। প্রথম সেশনেই তিন ফরম্যাট মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৬ হাজার রানের মাইলফলক পাড়ি দেন তিনি, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
তবে আসল চমকটা বাকি ছিল চা-বিরতির ঠিক পর। মোহাম্মদ আব্বাসকে দৃষ্টিনন্দন এক চারে সীমানাছাড়া করে টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরি তুলে নেন মুশফিক। এই সেঞ্চুরির সাথে সাথেই তিনি টপকে যান মুমিনুল হককে (১৩টি সেঞ্চুরি)। এখন টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে এককভাবে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির মালিক মুশফিকুর রহিম। সেঞ্চুরির পরও তার ব্যাট থামেনি, শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে খেলেন ১৩৭ রানের এক রাজকীয় ইনিংস।
লিড যখন ৪০০ ছাড়িয়ে যায়, তখন বাংলাদেশের পরিকল্পনা ছিল স্পষ্ট—দ্রুত রান তুলে পাকিস্তানকে আজই ব্যাটিংয়ে নামানো। মুশফিককে দারুণ সঙ্গ দিয়ে ৫১ বলে ২২ রান করে আউট হন তাইজুল ইসলাম। এরপর তাসকিন আহমেদ (৬) ও শরীফুল ইসলাম দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। শেষ পর্যন্ত ১০২.২ ওভারে ৩৯০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। পাকিস্তানের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল খুররম শাহজাদ (৪/৮৬) ও সাজিদ খান (৩/১২৬)।