মিরপুরে বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিতীয় ওয়ানডে শেষ হলেও রেশ কাটেনি সালমান আলি আগার অদ্ভুত রানআউট বিতর্কের। ক্রিজের বাইরে থাকা সালমানকে নিয়ম অনুযায়ী আউট করায় ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজার তোপের মুখে পড়েন মেহেদী হাসান মিরাজ। রমিজের দাবি, এতে স্পোর্টসম্যানশিপ বা খেলোয়াড়সুলভ মনোভাব ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তবে এমন অভিযোগ সরাসরি উড়িয়ে লিটন দাস বলেছেন, এটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ, কোনো চ্যারিটি লিগ নয় যে কেউ কাউকে ছাড় দেবে!
শুক্রবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের ইনিংসের ৩৯তম ওভারের ঘটনা এটি। মিরাজের বল সোজা ব্যাটে খেলেছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। মিরাজ যখন বলটি ধরার চেষ্টা করছেন, নন-স্ট্রাইক প্রান্তে থাকা সালমান তখন ক্রিজের অনেকটা বাইরে। তার শরীরি ভাষায় মনে হচ্ছিল, বল আটকাতে ব্যর্থ হলেই রানের জন্য ছুটবেন তিনি। হালকা সংঘর্ষের পরও মিরাজ বলটি আটকে দেন এবং দ্রুত স্টাম্পের দিকে ছুড়ে মারেন। ওই মুহূর্তে ক্রিজের বাইরে থাকা সালমান লাইভ বলটি হাত দিয়ে ধরার চেষ্টা করেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী আম্পায়ার তাকে আউট ঘোষণা করেন। এমন সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি সালমান। ক্ষুব্ধ হয়ে হেলমেট ছুড়ে মারেন এবং চিৎকার করে গালিগালাজ করতে থাকেন। মাঠে লিটন দাসের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও হয়।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে ধারাভাষ্যকক্ষে বসে পাকিস্তানি কিংবদন্তি রমিজ রাজা বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী আউট হলেও এখানে স্পোর্টসম্যানশিপ তীব্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যাটার মূলত বোলারকে সাহায্য করতে গিয়েছিলেন। তাকে যে এভাবে আউট করা হবে, সেটা তিনি প্রত্যাশা করেননি।’
ম্যাচ শেষে ব্রডকাস্টারদের কাছে রমিজ রাজার এমন মন্তব্যের কড়া জবাব দেন লিটন দাস। তিনি বলেন, ‘প্রথমত, কেউ এখানে চ্যারিটি লিগ খেলতে আসেনি, এটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। যেহেতু নিয়মে আউট আছে, তাই আমি কোনোভাবেই মনে করি না যে এখানে স্পোর্টসম্যানশিপ নষ্ট হয়েছে। যে যার ব্যক্তিগত মতামত দিতেই পারেন। তবে খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের মনে হয়েছে আউট তো আউটই।’
সালমানের ওই আউটের পরই মূলত ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। শতরানের ওপেনিং জুটির পর রিজওয়ান ও সালমানের ব্যাটে আরেকটি শতরানের জুটিতে বড় স্কোরের পথে ছিল পাকিস্তান। একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল স্কোর অনায়াসেই ৩০০ ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু সালমানের বিদায়ের পর ব্যাটিং ধসে ২৭৪ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীরা।
অবশ্য বৃষ্টিবিঘ্নিত রান তাড়ায় সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশও। ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে গিয়ে ১২৮ রানের বড় ব্যবধানে হারতে হয় স্বাগতিকদের। দলের হয়ে একমাত্র লিটন দাসই (৩২ বলে ৪১ রান) কিছুটা লড়াই করেন। ম্যাচ শেষে লিটনের আক্ষেপ, বৃষ্টির কারণে খেলা বাধাগ্রস্ত না হলে ম্যাচের চিত্র হয়তো অন্যরকম হতে পারত।