জুলাইয়ের রক্তস্নাত বিপ্লবের বুক চিরে যে দলটির জন্ম হয়েছিল একরাশ নতুন আশার আলো নিয়ে, সেই জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন আঁধারেই হারিয়ে যাচ্ছে!
৩০০ সংসদীয় আসনে প্রার্থী দেওয়ার হুংকার ছেড়ে কেন মাত্র ১২৫ জনের নাম ঘোষণা করা হলো।
বাকি ১৭৫টি আসনের ভাগ্য কি তবে জামায়াত বা অন্য কোনো জোটের ল্যাবরেটরিতে ‘গোপন লেনদেনের’ পণ্য হিসেবে রাখা হয়েছে?
মাঠপর্যায়ের হাজারো ত্যাগী কর্মী আর ১৫০০ মনোনয়ন প্রত্যাশীর প্রশ্ন এখন একটাই— “আমাদের শ্রম কি আপনাদের ক্ষমতার সিঁড়ি মাত্র?”
১৭৫ আসনের নীরবতা: সমঝোতা নাকি বিশ্বাসঘাতকতা?
এনসিপি নেতৃত্বের এই ‘অর্ধেক ঘোষণা’ নিয়ে উত্তাল এখন তৃণমূল।
ভোলা-৩ আসনের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলী উইংয়ের যুগ্ম সমন্বয়ক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সালাউদ্দিন এই রহস্যময় আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
তিনি সরাসরি শীর্ষ নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন “আপনারা ৩০০ আসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমাদের মাঠে নামিয়েছিলেন।
আমরা খেয়ে না-খেয়ে দল গুছিয়েছি, ফরম কিনেছি। অথচ ১২৫ জনের তালিকা দিয়ে বাকি ১৭৫ জনকে কেন অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিলেন? যদি জোটই করতে হয়, তবে আগে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে কর্মীদের শক্তি কেন দেখালেন না?
আগে শক্তি প্রদর্শন করে তারপর না হয় সম্মানজনক সমঝোতায় যেতেন!
কিন্তু আপনারা বেছে নিলেন একতরফা আর আত্মঘাতী পথ।”
ইঞ্জিঃ মোঃ সালাউদ্দিন বলেন— সাধারণ কর্মীদের ক্যারিয়ার ধ্বংস করে নিজেদের আখের গুছাতে ব্যস্ত।
বিএনপি-জামায়াতের সাথে দরকষাকষিতে কত আসন পাওয়া যাবে, আর কে কত লাভবান হবে—সেই অংকের ভিড়ে হারিয়ে গেছে জুলাই বিপ্লবের ইনসাফ আর সাম্যের চেতনা।
তিনি বলেন কেন ১৭৫ জন কর্মীকে দলের ভেতরই এতিম করে দিলেন?
৩০০ আসন ঘোষণা দিয়ে তারপর কি কর্মীদের সাথে বসে জোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত না? আসলে আপনাদের মানসিকতায় ‘গণতন্ত্র’ নয়, কাজ করছে ‘সুবিধাবাদ’। দালালি আর আপসের এই রাজনীতি করার জন্য আমরা রাজপথে নামিনি।”
ইঞ্জিঃ মোঃ সালাউদ্দিন বলেন আকাঙ্ক্ষা ছিল স্পষ্টবাদিতা আর স্বচ্ছতা। কিন্তু এনসিপির ভেতরে এখন চলছে কুয়াশাচ্ছন্ন রাজনীতি।
যাদের ত্যাগ আর অর্থের ওপর দাঁড়িয়ে দলটি আজকে শক্তি পেয়েছে, সেই মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাথে সম্মানজনক পরামর্শ না করে একতরফা জোটের দিকে পা বাড়ানো কি রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব নয়?
সালাউদ্দিন আরো বলেন রাজনীতি মানে কেবল সংখ্যার হিসাব নয়, এটি মানুষের বিশ্বাসের আমানত। কর্মীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়ে যে জোট আপনারা গড়ছেন, সেই জোটের ভিত্তি হবে বালুর বাঁধ। আমরা ইনসাফ কায়েমের রাজনীতি করতে এসেছি, কারো পকেট ভারি করার ঘুঁটি হতে নয়।”
এনসিপির নীতিনির্ধারকদের মনে রাখা উচিত, জুলাই বিপ্লবের আগুন এখনো মানুষের বুকে জ্বলছে।
যারা কর্মীদের ক্যারিয়ার নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন, তারা আগুনের সাথেই খেলছেন। ১৭৫টি আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের এই চরম অবমাননা আর বাকি আসনের রহস্যজনক নীরবতা দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ ভালোভাবে নেয়নি।
নেতৃত্ব যদি এখনই স্বচ্ছতা আর অংশগ্রহণের পথে না ফিরে আসে, তবে কর্মীদের এই বিদ্রোহের দাবানলে আপনাদের গড়া তাসের ঘর ছাই হতে সময় লাগবে না।
কারণ রাজনীতি মানুষের বিশ্বাসের নাম, বিশ্বাসঘাতকতার নয়!