এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বহাল রাখা এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে মো. সামসুল আলমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বুধবার (২৯ জুলাই) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠকে এসব দাবি জানায় দলটি। বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল এই বৈঠকে অংশ নেয়।
প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জসিম উদ্দীন সরকার ও শিশির মোহাম্মদ মনির।
বৈঠকে জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা চাকরি ছেড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারলেও, ইসির সাম্প্রতিক সুপারিশে এই সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে— যা নাগরিকদের সাংবিধানিক রাজনৈতিক অধিকারের পরিপন্থি। দলটির নেতারা আশঙ্কা করছেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে সরকারের কোনো দুরভিসন্ধি থাকতে পারে এবং এটি বাস্তবায়িত হলে ইসির গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এছাড়া অবসরের পর একজন ‘চিহ্নিত দলীয় ব্যক্তিকে’ ইসির অতিরিক্ত সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তেও তীব্র আপত্তি জানিয়েছে দলটি।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই নির্বাচন কমিশনের সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখার সুপারিশসহ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের আইনি সুযোগ রাখার প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়।
এই সুপারিশগুলো এখন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং সরকার তা গ্রহণ করলে আইন সংশোধনের জন্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন ও জাতীয় সংসদে বিল পাস করতে হবে। সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে বলে জানিয়েছে জামায়াত।