Home আন্তর্জাতিক সিনেমার দৃশ্যের মতো আঘাত হেনেছে নেপালের বন্যা

সিনেমার দৃশ্যের মতো আঘাত হেনেছে নেপালের বন্যা

Share

নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধস যেন সিনেমার দৃশ্যের মতো ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। প্রবল পানির স্রোতে ভেসে গেছে ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক, সেতু, জলবিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এখন পর্যন্ত ৯৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, আর নিখোঁজ রয়েছেন শত শত মানুষ।

নেপালের ভোতে কোশি নদীর তীরবর্তী রসুয়া ও নুওয়াকোট জেলার কয়েকটি এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষায়, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ‘কল্পনারও বাইরে’। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নিখোঁজদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা।

নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুধু নিখোঁজ পর্যটকের সংখ্যাই দাঁড়িয়েছে ৫৭৯ জনে। তাদের মধ্যে ৪৬৬ জন বিদেশি নাগরিক, যারা ২৮টি দেশের নাগরিক। নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে ১১৩ জন নেপালি, ৫৪ জন মার্কিন এবং ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন।

এর আগে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছিল, বিপর্যয়ের পর ৪০৩ জন নিখোঁজ ছিলেন। তাদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক ছিলেন। পরে নিখোঁজ পর্যটকের সংখ্যা আরও বেড়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নিখোঁজ মানুষের প্রকৃত সংখ্যা এখনো পুরোপুরি নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

দুর্যোগের আঘাতে নেপাল-চীন বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভোতে কোশি নদীর তীরবর্তী এলাকায় থাকা হাইওয়ে, সেতু ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চীনের সীমান্তবর্তী অংশেও সড়ক, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

রসুয়াগাধি হয়ে প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক তিব্বতের কৈলাস-মানস সরোবরের দিকে যাতায়াত করেন। পাশাপাশি জনাই পূর্ণিমা উপলক্ষে শত শত নেপালি তীর্থযাত্রীও ওই অঞ্চলের গোসাইঙ্কুণ্ডে যান। ফলে দুর্যোগের সময় ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক পর্যটক ও ভ্রমণকারী উপস্থিত ছিলেন।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভোতে কোশি নদীর উজানে কোনো হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদের পানি হঠাৎ বেরিয়ে আসার কারণে বন্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের সূত্রপাত হতে পারে। তবে দুর্যোগের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনো নিশ্চিত নয়।

নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে উদ্ধারকাজ জোরদার করা হয়েছে। হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন উদ্ধারকারী দল নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। আহতদের চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুর সরকারি হাসপাতাল ও নিরাপত্তা বাহিনীর চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এ ঘটনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও শোক ও সংহতি জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার নেপালের সরকার ও জনগণের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

গত বছরও একই এলাকায় আকস্মিক বন্যায় ১৮ জন নিহত হয়েছিলেন এবং ৬ বিলিয়ন নেপালি রুপির বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। এবার সেই ক্ষত শুকানোর আগেই আরও ভয়াবহ দুর্যোগে সীমান্তবর্তী জনপদগুলোতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়া বসতি আর ধ্বংসস্তূপের চিত্র দেখে স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, এ যেন বাস্তব নয়, কোনো ভয়াবহ সিনেমার দৃশ্য।

সূত্র: বিবিসি

Related Articles

হাজারো ডিসেম্বর যাবে, কিন্তু শেখ হাসিনা আর ফিরবেন না: রাশেদ খাঁন

হাজারো ডিসেম্বর চলে যাবে কিন্তু শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আর ফিরবে না বলে...

বিজয়া দশমী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা

শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে দেশের সকল সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সব নাগরিককে...

রণবীরকে ছাড়াই দুর্গাপূজায় আলিয়া, সঙ্গী ছিলেন কে

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে ভারতজুড়ে। পশ্চিমবঙ্গের...

বাংলাদেশের ফুটবলকে পরের ধাপে নিতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে ফিফা

বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নে ছেলেদের ও মেয়েদের ফুটবল, অবকাঠামো, প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং স্কুলভিত্তিক বিভিন্ন...