Home জাতীয় সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলকের অবৈধ টাকায় আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ জায়েদ! ক্রিপ্টোকারেন্সির অবৈধ টাকায় মালেশিয়ায় হয়েছে নতুন অফিস!

সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলকের অবৈধ টাকায় আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ জায়েদ! ক্রিপ্টোকারেন্সির অবৈধ টাকায় মালেশিয়ায় হয়েছে নতুন অফিস!

Share

অনুমোদন ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার (ফরেক্স) ট্রেডিং, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও লাইসেন্সবিহীন ডিজিটাল অর্থ (ভার্চুয়াল মানি) তৈরি-লেনদেন দেশের প্রচলিত আইনে নিষিদ্ধ। অথচ এমন অবৈধ কারবারের মাধ্যমে বিপুল অর্থসম্পদের মালিক হয়েছেন ‘নেক্সট ভেঞ্চার’ ও ‘ফান্ডেড নেক্সট’-এর প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ জায়েদ। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের মন্ত্রী সভার সদস্যদেরর অবৈধ অর্থ এই জায়েদের মাধ্যমেই বিদেশে পাচার হয়েছে বলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের সেই অবৈধ টাকায় মালেশিয়ায় গড়ে তুলেছেন বিশাল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

জানা গেছে, স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে সেসময় নির্বিঘ্নে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান তিনি। তবে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরও ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেছেন জায়েদ।

অভিযোগ উঠেছে, পলকসহ দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতসংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকজনের হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে জায়েদের হাতে। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যা মামলাও রয়েছে।

ঢাকার বিজ্ঞ মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলাটি করেন টাঙ্গাইলের আশরাফ আলী নামে এক ব্যক্তি। এছাড়াও নামে বেনামে এসব তথ্য প্রমাণ দিয়ে বিভিন্ন স্স্থায় তার নামে একাধিক একটি গোয়েন্দা সূত্র থেকে পাওয়া এ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য এ প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে ‘নেক্সট ভেঞ্চার’ প্রতিষ্ঠা করেন জায়েদ। আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান হিসাবে দেশে ব্যবসা শুরু করলেও একপর্যায়ে শুরু করেন ফরেক্স ও ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবসা। এজন্য ২০২২ সালে গড়ে তোলেন ‘ফান্ডেড নেক্সট’ প্রতিষ্ঠান। তবে জায়েদ নিজের প্রভাব জাহির করেন ২০২৩ সালের জুলাইয়ে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমি মার্টিনেজকে ঢাকায় এনে।

‘ফান্ডেড নেক্সট’-এর অফিস ও কার্যক্রম রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান, মালয়েশিয়া, কেম্যান আইল্যান্ডস, সাইপ্রাস, হংকং ও শ্রীলংকায়।

তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব দেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অনুমতি নিয়ে বিদেশে অর্থ নেননি জায়েদ। বাংলাদেশসহ এসব দেশে অবৈধ ফরেক্স ও ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবসা করে শত শত কোটি টাকা হাতিয়েছেন তিনি। চড়েন বিলাসবহুল গাড়িতে এবং দেশে-বিদেশে গড়েছেন বিপুল সম্পদ। তার বিলাসিতার কাছে হার মানবে যে কোনো ধনকুবেরও।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে পলকসহ আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার নির্বাচনে স্পন্সর করেছেন জায়েদ। কালোটাকার দাপটে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বেসিসেও (বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস) বাগিয়েছেন পরিচালক পদ। আওয়ামী লীগ আমলে ২০২৪ সালের ৮ মে অনুষ্ঠিত বেসিস নির্বাচনে বিপুল অর্থের বিনিময়ে ভোট কিনেন তিনি।

একাধিক গোয়েন্দা সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা যায়, জায়েদ বাংলাদেশের ক্রিপ্টোকারেন্সি ক্রয়-বিক্রয়সহ মানি লন্ডারিং ও অনলাইন প্রতারণার অন্যতম হোতা। অর্থবিত্তের মালিক হওয়ার জন্য নানা ধরনের ছলচাতুরী, কূটকৌশল ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তিনি এখন হাজার কোটি টাকার মালিক। জায়েদ দেশের ভার্চুয়াল মুদ্রা কেনাবেচার মাস্টারমাইন্ড। কয়েক বছর ধরে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অর্থ বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে অনেককে প্রতারিত করছেন।

ভুক্তভোগী কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা ভয়ে এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। দেশের আইন অনুযায়ী, বিটকয়েনের মতো যে কোনো ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লেনদেন অবৈধ। লেনদেনে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার হলে তা স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট, ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট ও দুর্নীতিবিরোধী আইন লঙ্ঘন করবে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন অর্থ পাচার হিসাবেও বিবেচিত হবে। জায়েদের ‘ফান্ডেড নেক্সট’ ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সৈয়দ আব্দুল্লাহ জায়েদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে খুদে বার্তা পাঠিয়েও এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চুয়াল মুদ্রা কী : বিশ্বের সর্বপ্রথম মুক্ত সোর্সের ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চুয়াল মুদ্রার নাম বিট কয়েন। যাতে লেনদেন করতে প্রয়োজন হয় না কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার। ২০০৯ সালে সাতোশি নাকামোতা ছদ্মনামের কোনো এক ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিট কয়েনের প্রচলন শুরু করে। যদিও পরে এই নামে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব মেলেনি এখন পর্যন্ত। বর্তমানে একেকটি বিট কয়েনের মূল্য বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, জাপানসহ বিশ্বের অনেক দেশে সরকারি স্বীকৃতি নিয়ে চলছে এই ব্যবসা। ভারতও আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নিয়েছে এ লেনদেনকে। তবে বাংলাদেশ ২০১৪ সালে অবৈধ ঘোষণা করে বিট কয়েন লেনদেন। তারপরও কালোটাকা দেশ থেকে অন্য দেশে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বা অবৈধ মাদক ব্যবসা, অস্ত্র, অবৈধ যন্ত্রপাতি কেনাবেচায় ব্যবহার হচ্ছে ক্রিপ্টোকারেন্সি। বিশ্বে বর্তমানে বিভিন্ন রকমের ক্রিপ্টোকারেন্সি রয়েছে।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে-বিট কয়েন, ইথেরিয়াম, লাইট কয়েন, মনেরো, জেড ক্যাশ, এক্সআরপি, টিথার, ইউএসডিসি কয়েন ইত্যাদি। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২১ সালের ২৯ জুলাই এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ক্রিপ্টোকারেন্সি বিভিন্ন জায়গায় লেনদেন হচ্ছে। এসব ভার্চুয়াল মুদ্রা কোনো দেশের বৈধ কর্তৃপক্ষ ইস্যু করে না। ফলে এ মুদ্রার বিপরীতে কোনো আর্থিক দাবি স্বীকৃত নয়। এসব মুদ্রায় লেনদেন বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্য কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা অনুমোদন করে না।

উল্লেখ‍্য যে, জুলাই আগস্ট অভ‍্যুত্থানের পর পর ই গা ঢাকা দেয় সিইও জায়েদ। তার নামে একাধিক হত‍্যা মামলা হয়েছে । সে মালয়েশিয়াতে পলাতক। মালয়েশিয়াতেও সম্প্রতি বিলাশ বহুল অফিস সেটাপ করে এই অবৈধ ক্রিপ্টোকারেন্সি ব‍্যবসা পরিচালনা করছে।

দেশে বর্তমানে জায়েদের সকল অবৈধ কার্যকলাপ দেখভাল ও নেক্সট ভেনচর কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত সিইও হিসেবে ব‍্যবসা পরিচালনা করছে কোম্পানিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ রফিক আহমেদ । তার নামেও অভিযোগ আছে যে, আন্দোলন দমনে সিইও জায়েদের নির্দেশক্রমে রফিক অর্থ বিতরণ করেছে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের । বর্তমানে বিভিন্ন দপ্তরে ধর্না দিয়ে ভারপ্রাপ্ত সিইও রফিক ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে অর্জিত এ অবৈধ অর্থ ব‍্যয় করছে। তাছাড়া দুদকে ও তাদের নামে অভিযোগ জমা পড়ছে । দুদকের একটি বিশেষ টিম ইতোমধ্যে তাদের নজরদারীতে রেখেছে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে ।

এসকল অভিযোগ সম্পর্কে বক্তব্য জানতে নেক্সট ভেনচরের বাড্ডা প্রগতি সরণির অফিসে গেলে শেখ রফিককে পাওয়া যায় নি এবং মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ব‍্যস্ত আছেন জানিয়ে ফোন কেটে দেন।

Related Articles

বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে ইফতার করলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সম্মানে ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক...

যানবাহনে তেল নেওয়ার সীমা বেঁধে দিল বিপিসি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ...

বিশ্ববাজারে পাটপণ্যকে ছড়িয়ে দিয়ে নতুন সম্ভাবনার সুযোগ কাজে লাগান: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পাটপণ্যকে বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দিতে এবং নতুন সম্ভাবনার সুবর্ণ সুযোগকে...

কার্যকর সংসদ গড়তে দলীয় এমপিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনকে সামনে রেখে দলীয় সংসদ সদস্যদের (এমপি) প্রশিক্ষণ কর্মশালা...