প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আবেদন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মনিরা শারমিন। এছাড়া বিএনপির প্রার্থী মাধবী মারমার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা দিয়েছেন ছাত্রদলের নেত্রী চন্দ্রা চাকমা।
রোববার (২৬ এপ্রিল) রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল আবেদনের শেষদিন এ তথ্য জানান ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক।
ত্রয়োদশ সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০টি আসনের ৪৯ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। বৈধ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি জোটের ৩৬ জন, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের ১২ জন ও স্বতন্ত্র জোটের একজন রয়েছেন।
সরকারি চাকরি ছাড়ার পর তিন বছর পার না হওয়ায় জামায়াতের জোটের প্রার্থী এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।
২০২৫ সালের মার্চে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান মনিরা শারমিন। তিনি ২০২৩ সালে নভেম্বরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে অফিসার (জেনারেল) পদে যোগ দেন, দুই বছর পর গত ডিসেম্বর চাকরি ছাড়েন তিনি। এ নিয়মে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাদ পড়েন তিনি।
ইসিতে আপিল করার পর মনিরা শারমিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল করেছি। সোমবার (আজ) সকাল সাড়ে ১০টায় শুনানির সময় দিয়েছে কমিশন।’
এদিকে বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য বিএনপির প্রার্থী মাধবী মারমা পদত্যাগ না করার অভিযোগ করেছেন চন্দ্রা চাকমা।
ইসিতে অভিযোগ জমা দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক। মাধবী মার্মা বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য পদ থেকে সরে না দাঁড়িয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন, যা আইনগতভাবে অবৈধ।’
চন্দ্রা চাকমার দাবি, অন্যান্য জেলা পরিষদের আইন কিন্তু এক ধরনের, আর তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করতে হলে চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্তপত্র যোগে যেকোনো সদস্য পদত্যাগ করতে পারবেন। উনি কিন্তু পদত্যাগ করেননি। উনি ২১ তারিখে এখানে তার মনোনয়নপত্র সবকিছু দাখিল করেছেন। যার কারণে তিনি জেলা পরিষদের আইন যেমন লঙ্ঘন করেছেন, তেমনি নির্বাচন কমিশনের যে আইন আছে, সেটাও লঙ্ঘন করেছেন।
তবে চন্দ্রা চাকমার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাধবী মার্মা। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছি। অনুমোদন হয়ে গেছে গত সপ্তাহে। এরপর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।’
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, ২৭ এপ্রিল ও ২৮ এপ্রিল আপিল নিষ্পত্তি হবে। ২৯ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ আর ভোট হবে ১২ মে।
সংরক্ষিত নারী আসনের দল বা জোট থেকে মনোনীত প্রার্থীরা সাধারণত বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।