Home আন্তর্জাতিক পশ্চিমবঙ্গে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ করল বিজেপি

পশ্চিমবঙ্গে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ করল বিজেপি

Share

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পশু জবাই নিয়ে নতুন আদেশ আরোপ জারি করেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। রাজ্যটিতে প্রকাশ্যে গরুসহ সব ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নতুন এই নির্দেশনা ঘিরে রাজ্যে রাজনৈতিক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় বলা হয়, নির্ধারিত সরকারি ছাড়পত্র ছাড়া গরু, ষাঁড়, মহিষসহ কোনো পশু জবাই করা যাবে না। নিয়ম ভাঙলে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার নতুন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অনুমোদিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সরকারি পশু চিকিৎসকের দেওয়া ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনো পশু জবাই করা যাবে না। এই নিয়ম গরু, ষাঁড়, বলদ, বাছুর, পুরুষ ও স্ত্রী মহিষ, মহিষের বাছুর এবং খোজা মহিষ— সব ধরনের পশুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে পশু জবাইয়ের জন্য কঠোর কিছু শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পশুর বয়সসীমা, নির্ধারিত স্থানে জবাই এবং নিয়ম ভাঙলে শাস্তির বিধানও রয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো পশু জবাইয়ের আগে অবশ্যই একটি সনদ নিতে হবে। ওই সনদে উল্লেখ থাকবে যে পশুটি জবাইয়ের উপযুক্ত।

সনদে নিশ্চিত করতে হবে যে পশুটির বয়স ১৪ বছরের বেশি এবং সেটি আর কাজ বা প্রজননের জন্য উপযোগী নয়। অথবা বয়স, আঘাত, বিকলাঙ্গতা বা অনিরাময়যোগ্য রোগের কারণে স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়েছে। এই সনদ পৌরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিকে এবং সরকারি পশু চিকিৎসককে যৌথভাবে দিতে হবে।

সনদ দেওয়ার কারণ লিখিতভাবে উল্লেখ করাও বাধ্যতামূলক। যদি সনদ দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আপিল করতে পারবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জবাইয়ের অনুমতি পাওয়া পশু শুধুমাত্র পৌরসভার কসাইখানা বা স্থানীয় প্রশাসনের নির্ধারিত স্থানে জবাই করা যাবে। কোনো খোলা বা জনসমাগমস্থলে পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নিয়ম বাস্তবায়নের জন্য পৌর চেয়ারম্যান, পঞ্চায়েত সভাপতি বা পশু চিকিৎসকের অনুমোদিত কর্মকর্তারা যে কোনো স্থাপনা পরিদর্শন করতে পারবেন। এই পরিদর্শন কাজে কেউ বাধা দিতে পারবেন না বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে নতুন এই নিয়ম ভাঙলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, এক হাজার রুপি পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। এছাড়া সব অপরাধকেই আমলযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস পরাজিত হওয়ার পর বিজেপি ক্ষমতায় এসে এই নতুন নিয়ম জারি করল। ওই নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে পরাজিত করেন।

Related Articles

হাজারো ডিসেম্বর যাবে, কিন্তু শেখ হাসিনা আর ফিরবেন না: রাশেদ খাঁন

হাজারো ডিসেম্বর চলে যাবে কিন্তু শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আর ফিরবে না বলে...

বিজয়া দশমী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা

শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে দেশের সকল সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সব নাগরিককে...

রণবীরকে ছাড়াই দুর্গাপূজায় আলিয়া, সঙ্গী ছিলেন কে

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে ভারতজুড়ে। পশ্চিমবঙ্গের...

বাংলাদেশের ফুটবলকে পরের ধাপে নিতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে ফিফা

বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নে ছেলেদের ও মেয়েদের ফুটবল, অবকাঠামো, প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং স্কুলভিত্তিক বিভিন্ন...