তামাক ও নিকোটিনের মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশু-কিশোরসহ দেশের সামগ্রিক ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখতে বর্তমান সরকার দৃঢ়ভাবে বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
৩১ মে উদযাপিত হতে যাওয়া ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে শনিবার (৩০ মে) দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে উল্লেখ করেন, ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ২০০৩ সালে এফসিটিসি-তে স্বাক্ষর, ২০০৪ সালে অনুসমর্থন এবং পরবর্তীতে ২০০৫ সালে একটি পূর্ণাঙ্গ তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে। এর ধারাবাহিকতায় তামাকের ব্যবহার আরও কঠোরভাবে প্রতিরোধ করতে এবং বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরো শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তামাকে বিদ্যমান নিকোটিন মানবশরীরে মারাত্মক আসক্তি সৃষ্টি করে। বিড়ি, সিগারেট, ই-সিগারেট, জর্দা, গুলসহ যেকোনো ধরনের তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের নিয়মিত ব্যবহার হৃদরোগ, স্ট্রোক, বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার এবং ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগসহ নানা মারাত্মক অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ।’
তামাকের প্রলোভন ও আগ্রাসন থেকে শিশু-কিশোরদের সুরক্ষার লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে তামাকজাত দ্রব্যের সকল প্রকার বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও প্রমোশন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপস, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, নাটক-সিনেমাসহ সব ধরনের দৃশ্যমান মাধ্যমে তামাকের প্রচারণা আইনত দণ্ডনীয়। এর পাশাপাশি বিভিন্ন তামাক কোম্পানির করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার বা ‘সিএসআর’ আড়ালে পরোক্ষ প্রচার-প্রচারণাও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষায় ভৌগোলিক বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ করে বাণীতে জানানো হয়, দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের চারপাশের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বা তামাকজাত পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৮ বছরের কম বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে তামাক ও নিকোটিন পণ্য বিক্রি আইনগতভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে সকল পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণও আগের চেয়ে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও বলেন, ‘নতুন আইনি বিধিবিধানের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা এখন সময়ের দাবি। জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই ঘটে বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের কারণে, যার অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ হচ্ছে তামাক ও নিকোটিনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার। আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘টোব্যাকো এটলাস ২০২৫’ এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বছর তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে ১ লাখ ৯৯ হাজারের বেশি মানুষ অকালে মৃত্যুবরণ করে।
অর্থনৈতিক ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক গবেষণার তথ্য বাণীতে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, দেশে তামাক ব্যবহারের ফলে চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য ব্যয়, পরিবেশগত মারাত্মক ক্ষতি এবং মানুষের কর্মক্ষমতা বা উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি। বাণীতে তিনি বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে গৃহীত সকল সরকারি ও বেসরকারি কর্মসূচির সার্বিক ও আনুষ্ঠানিক সাফল্য কামনা করেন।