Home আইন-আদালত খুনী হাসিনার আমলে দায়ের হওয়া হয়রানিমূলক মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি ছাত্রদল নেতা তৌহিদুল ইসলামের

খুনী হাসিনার আমলে দায়ের হওয়া হয়রানিমূলক মামলা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি ছাত্রদল নেতা তৌহিদুল ইসলামের

Share

ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলাগুলো দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা তৌহিদুল ইসলাম। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকা এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা বহু মামলা এখনো দেশের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার কারণে অসংখ্য মানুষকে বছরের পর বছর আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে। দীর্ঘসূত্রতার কারণে মামলার ভুক্তভোগীরা আর্থিক ক্ষতি, মানসিক চাপ ও সামাজিকভাবে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

নিজের মামলার প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এই নেতা বলেন, ২০১৯ সালের ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরদিন, ১২ মার্চ ছাত্রদলের আহূত ছাত্র ধর্মঘট চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় তিনি হামলার শিকার হন। তার দাবি, হামলায় তিনি রক্তাক্ত হলেও পরবর্তীতে উল্টো তাকে এবং আরও তিনজনকে আসামি করে শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়। মামলায় অন্য আসামিরা হলেন—মাহফুজ চৌধুরী, আহমেদ আরিফ ও তানভীর আজাদী।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে তাকে গাড়ি ভাঙচুর ও বিস্ফোরক আইনের অভিযোগে আরও দুটি মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছিল। তার দাবি, ওই দুটি মামলার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে ডাকসু-সংশ্লিষ্ট মামলাটি এখনো চলমান থাকায় তাকে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে।

তৌহিদুল ইসলাম জানান, বুধবার ঢাকার সিএমএম আদালতের ৪ নম্বর কোর্টে ওই মামলায় তার হাজিরা ছিল। এ সময় তার আইনজীবী সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্তির জন্য পিটিশন দাখিল করেছেন।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তার বিরুদ্ধে এসব মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তৌহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে তিনি ১০ বার হামলার শিকার হয়েছেন এবং চারবার রক্তাক্ত হয়েছেন। সর্বশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও তিনি সম্মুখসারির একজন কর্মী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে তার অসংখ্য সহযোদ্ধা হত্যাকাণ্ড, গুম, হামলা এবং বিভিন্ন গায়েবি ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনার কারণে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির শিকার অনেক মানুষ এখনো আইনি জটিলতার মধ্যে রয়েছেন।

বর্তমান সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে কিছু রাজনৈতিক ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে এখনো ফ্যাসিবাদী আমলে দায়ের করা বহু মামলা বিচারাধীন থাকায় তার মতো অনেক মানুষকে প্রতিনিয়ত আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করে দ্রুত প্রত্যাহারের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এতে দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতায় থাকা নিরপরাধ মানুষ হয়রানি ও ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন।

Related Articles

হাজারো ডিসেম্বর যাবে, কিন্তু শেখ হাসিনা আর ফিরবেন না: রাশেদ খাঁন

হাজারো ডিসেম্বর চলে যাবে কিন্তু শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আর ফিরবে না বলে...

বিজয়া দশমী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা

শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে দেশের সকল সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সব নাগরিককে...

রণবীরকে ছাড়াই দুর্গাপূজায় আলিয়া, সঙ্গী ছিলেন কে

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে ভারতজুড়ে। পশ্চিমবঙ্গের...

বাংলাদেশের ফুটবলকে পরের ধাপে নিতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে ফিফা

বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নে ছেলেদের ও মেয়েদের ফুটবল, অবকাঠামো, প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং স্কুলভিত্তিক বিভিন্ন...