একটি রাজনৈতিক দল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার ছড়াচ্ছে এবং জাল ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
নির্বাচন সামনে রেখে টাকা দিয়ে ভোট কেনা জামায়াতের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও আচরণবিধির লঙ্ঘন উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তথাকথিত অবস্থানকে পুঁজি করে একটি দল নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা সেই প্রচারণাতেই মানুষকে, এমনকি শিশুদেরও অর্থ দিয়ে প্রলুব্ধ করছে। যা নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। এটি অত্যন্ত পীড়াদায়ক। স্বয়ং ওই দলীয় প্রধানের আসনেই টাকা দিয়ে ভোট কেনার অপপ্রয়াস চলছে। তাহলে দেশজুড়ে ওই দলটি কী করছে? নির্বাচনী আচরণবিধির এই লঙ্ঘন একাধারে জনবিচ্ছিন্নতা ও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ।
তিনি বলেন, যে দলটি প্রতিনিয়ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে, তারাই যদি ভোটের মাঠে টাকা ছড়িয়ে জনগণের ভোট কিনতে চায়, তাহলে এর চেয়ে বড় দ্বিচারিতা ও নৈতিকতার লঙ্ঘন আর কী হতে পারে?
তিনি আরও বলেন, খুলনা-১ আসনের সেই দলের প্রার্থী ভোটারের মাঝে নিজে টাকা বিলাচ্ছেন, যা এরই মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে। এভাবেই নিশ্চিত পরাজয়ের মুখে দেশজুড়ে টাকা দিয়ে ভোট কেনার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দলটি। আমরা জানতে পেরেছি, সেই দলের এক শীর্ষ নেতার আসন, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দলীয় সন্ত্রাসীরা রাতের আঁধারে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এ ছাড়া বগুড়া-৪ আসনের নন্দীগ্রামের ৪ নম্বর থালতামাঝ গ্রামে মঙ্গলবার রাতে ওই দলের সাজাপ্রাপ্ত ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা স্থানীয় বিএনপির নেতাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমরা এই ধরনের প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন তথা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
মাহদী আমিন বলেন, বিএনপির অবশ্যম্ভাবী বিজয় নস্যাৎ করতে যত অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র, অর্থনৈতিক লেনদেন ও সহিংসতা করা হোক না কেন, গণতন্ত্রকামী জনগণ তা রুখে দিয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে।