এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের রাতে জাতীয় স্টেডিয়ামে গ্যালারি ভরা দর্শকের প্রত্যাশা ছিল একটা লড়াই— কিন্তু বাংলাদেশ সে লড়াইকে পরিণত করল ইতিহাসের পথে এক মহামূল্যবান রাতে। দুই দশকেরও বেশি সময় পর ভারতকে হারানোর সুযোগ সামনে আসতেই দলটি খেললো দারুণ শৃঙ্খলা, জেদ আর সঠিক সময়ে সঠিক কাজের নিখুঁত সমন্বয়ে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের গতি বদলে দেয় সেই একাদশ মিনিট, তারপর বাংলাদেশ ধরে রাখল লিড, ধরে রাখল আত্মবিশ্বাস, শেষ পর্যন্ত তুলে নিল কাঙ্ক্ষিত জয়।
ম্যাচের শুরুতেই ভারত বল দখলে আধিপত্য দেখালেও গোলের দেখা পায় বাংলাদেশই। ১১ মিনিটে বাঁ দিক থেকে রাকিব হোসেনের ধরে ধরে বাড়ানো পাস ঠান্ডা মাথায় ফিনিশিং করেন শেখ মোরছালিন। লাল-সবুজের জার্সিতে এটি তার সপ্তম গোল, আর আজকের ম্যাচে সেটিই হয়ে ওঠে ইতিহাসের দরজা খুলে দেওয়া মুহূর্ত।
এরপরই ম্যাচে আসে উত্তেজনা। ৩৪ মিনিটে তপু বর্মণ ও ভারতের বিক্রমের সংঘর্ষে মাঠ গরম হয়ে ওঠে। কয়েক মুহূর্তের হাতাহাতির পর দুজনকেই হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। এর আগেই বাংলাদেশের বক্সে ভুল করে গোল উপহার দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, কিন্তু ঠিক সেখানেই বড় ত্রাতা হয়ে ওঠেন হামজা চৌধুরী—ভারতের বিপজ্জনক ক্রস হেড করে ক্লিয়ার করে দলকে রক্ষা করেন।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে হামজার দূরপাল্লার শট সামান্য বাইরে দিয়ে বেরিয়ে গেলে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া হয়। তবু বিরতিতে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।