প্রত্যেকটা ভালো কাজের একটা কাফফারা দিতে হয় জেনেই সরকারে ঢোকার ঝুঁকি নিয়েছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে চালানো সম্মিলিত মিথ্যাচার ও প্রোপাগান্ডাই প্রমাণ করে যে তিনি তার কাজ সঠিকভাবে করতে পেরেছেন।
রোববার (৭ জুন) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ফারুকী তার ক্যারিয়ার, সরকারি কাজ এবং বর্তমানের নানা আলোচনা-সমালোচনা নিয়ে মুখ খোলেন।
স্ট্যাটাসের শুরুতেই ফারুকী লেখেন, ‘প্রত্যেকটা ভালো কাজের একটা কাফফারা দিতে হয় এটা জেনেই সরকারে ঢোকার ঝুঁকি নিই। কিন্তু সেটা যে এইরকম ভয়াবহ হবে এটা ভাবিনি। আমাদেরকে নিয়া এমনসব মানুষজন কথা বলছে, এদের উত্তর দিলেও আমাদের ইজ্জত থাকে না। উইথ অল রেসপেক্ট টু দেম, এই মানুষগুলো আমাদের চেনে না, জানে না, জীবনে কোনোদিন আমাদের সিলেবাসেও ছিল না। এদের নিয়া কথা বলা তো দূরের কথা, এদের নামও আমাদের আড্ডায় কেউ কোনোদিন একবারও উচ্চারণ করে নাই। এরা এতটাই অপ্রাসঙ্গিক ছিল।’
গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক ভাই-বোনরা ফোন করে জিজ্ঞেস করে, ভাই, অমুক আপনার সম্পর্কে এই কথা বলছে, আপনার প্রতিক্রিয়া কী? বুঝেন অবস্থা! এখন এদের কথার উত্তর দিতে হইব আমার? এটাই কাফফারা।’ একইসঙ্গে তিনি নিজের নীতি পরিষ্কার করে বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় থাকলে আমি মানুষের পক্ষে থাকতাম। জুলাইতেও আমি মানুষের পক্ষেই ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ।’
এ ছাড়া স্ট্যাটাসটি কমেন্টে ফারুকী তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। তিনি লিখেন, ‘আমার ক্যারিয়ার পুরোপুরিই প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান নির্ভর। বিজ্ঞাপন হক, টেলিভিশন হক আমি নিজের সিগনেচার রেখে কাজ করে নিজের একটা স্টাইল তৈরি করতে পারছি। ফলে আমার যা অর্জন সেটা আমার দর্শকের কল্যাণেই। কাজ পাওয়ার জন্য কোনো সরকারের কাছে আমার যাওয়ার দরকার পড়ে নাই। আমরা ইন্ডাস্ট্রি বদলাইছি কাজ দিয়া। কারো সামনে গিয়া হাত কচলাইয়া না।’
আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে ব্যবসায় কোনো সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে ফারুকী বলেন, ‘সরকারি কাজ আমাদের পোষায় না। যে দুই-চারটা সরকারি কাজ আমার প্রতিষ্ঠান করছে কিবরিয়ার কোডিরেকশনে, সেগুলোও করার জন্য তারাই আমার কাছে অনুরোধ নিয়া আসছে। যেমন, বিমানবাহিনী অনির্বান, নেভি, ভ্যাট এরকম কয়টা। এগুলো আমার টোটাল ক্যারিয়ারের ১ পারসেন্টও না। এমন কি যে বিজ্ঞাপন এজেন্সিগুলো আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে কাজ বেশি করছে বলা হয়, তাদের শীর্ষ পদে আমার বন্ধুরা থাকার পরও ওদের সঙ্গে আমার কাজের ইতিহাস অতি নগণ্য। ধরেন, ২০ বছরে ৫টা কাজ করছি কি না, সন্দেহ। যে ২০ বছরে অন্য ফিল্মমেকাররা হয়তো কাজ করেছে ২০০টা।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘বিজ্ঞাপন পাড়ায় ঘাড় ত্যাড়া হিসাবে সুখ্যাতি পাওয়ায় আমাকে এজেন্সিগুলা কাজ দিতে খুব কমফোর্ট ফিল করতো না বলে মনে হয়েছে আমার। আমার এই রেবেল স্বভাবের পরও যে আমি খাইয়া পইরা বাঁচতে পারছি এর কারণ বেশকিছু ব্র্যান্ড আমার ওপর বিশ্বাস রাখছে। আর আমি তাদেরকে হিট বা টকাবিলিটি ক্রিয়েট করে এরকম কাজ দিছি বইলা হয়তো। যদিও ইদানীং ইন্ডাস্ট্রি প্যাটার্ন আরও বদলাইছে। সেটা অন্য আলাপ। ফলে আমার ক্যারিয়ার এজেন্সি সিন্ডিকেটের ওপর দাঁড়ানোও না। আমি জীবনে কোনোদিন কোনো সরকারি অনুদানে কাজ করি নাই। আওয়ামী লীগ বা তার নেতাদের নিয়া কোনো ছবি বানাই নাই।’
সবশেষে সমালোচকদের ‘গাধা’ সম্বোধন করে রসিকতার ছলে ফারুকী বলেন, ‘বিরক্তিকর ব্যাপার হলো গাধাগুলার (প্রাণী অর্থে না) প্রোপাগান্ডার জন্য এই ফালতু বিষয়ে কথা বইলা আমার কিছু সময় সদকা দিতে হইলো।’