Home আন্তর্জাতিক শান্তি ফিরুক না ফিরুক গাজায় ঘটেছে হলোকাস্ট

শান্তি ফিরুক না ফিরুক গাজায় ঘটেছে হলোকাস্ট

Share

আমস্টারডামে যখন শরতের হাওয়া বয়ে যাচ্ছিল, তখন ফিলিস্তিনের গাজায় হত্যা করা হচ্ছিল শিশুদের। আবদুল্লাহ আহমেদ জিহাদ আল-হাসানি, মাসাহ মোহাম্মদ হামজা আল-রিফি, সেলিন আহমেদ মুফিদ আল-ইয়াজিজির মতো ছেলেমেয়েরা এক বছরও জীবন নিয়ে বাঁচতে পারেনি। তাদের পৃথিবী এক নিমেষেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে ইসরায়েলের আগুনে। ভূলোক থেকে বিদায় করে দেওয়া হয়েছে ৬৯ হাজার মানুষকে। এখন গাজায় শান্তি আসুক আর না আসুক, এই সময়ের হলোকাস্ট ঘটে গেছে। মিডলইস্ট আইয়ের বিশ্লেষণে এসব কথা বলা হয়েছে।

২০২৪ সালে ল্যান্ডসেট মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা পাঁচ লাখের কাছাকাছি। এমনকি তার বেশিও হতে পারে। এর মানে হলো, ইসরায়েল-মার্কিন-ইউরোপ জোট যে গণহত্যা চালিয়েছে, তাতে গাজার প্রায় ২৩ লাখ অধিবাসীর এক-তৃতীয়াংশ নিহত হয়েছেন। গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষগুলো ধুলার মেঘে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। তৃষ্ণায় বুক ফেটে প্রাণ চলে গেছে। যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে হয়তো তারা একটু শান্তি পেতে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করেছেন। ধীরে ধীরে কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপ থেকে হয়তো কতশত কঙ্কাল উদ্ধার হবে। কিন্তু এসব হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার নেই। এভাবে ইসরায়েল বারবার ছাড় পেতে থাকলে একই অপরাধ বারবার ফিরে আসবে। এই গণহত্যার জন্য মুসলিম বিশ্বের সরকারগুলো কম দায়ী নয়। তারাই পশ্চিমা ঔপনিবেশিক শক্তিগুলোর সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে। আর গণহত্যা লাইভে দেখতে হয়েছে আমাদের। সাম্রাজ্যবাদী বিশ্ব ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে ফিলিস্তিনের জনগণকে ‘বলিদান’ করা হয়েছে। রাজনৈতিক ও করপোরেট শ্রেণির কৌশলগত সিদ্ধান্তেই ঘটেছে নিষ্ঠুরতম গণহত্যা।

আন্তর্জাতিক আইনের কবরস্থান গাজা
আল-মাওয়াসিতে তাঁবুতে জীবন্ত দগ্ধ করে মারা হয়েছিল নারী-শিশুদের। বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছিল পোড়া মাংসের অমোঘ দুর্গন্ধ। প্রাণগুলো একে একে নিভে গেছে। রাফায় ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর আঘাতে ৪৫ জনকে একযোগে জীবন্ত দগ্ধ করা হয়েছিল। একটি বিস্ফোরণ দুটি মানবদেহকে হাজার হাজার ফুট উঁচুতে ছুড়ে দিয়েছিল। এক বাবার বিচ্ছিন্ন মাথার কাছে চিৎকার দিয়ে কাঁদছিল শিশু। ইসরায়েলি স্নাইপাররা গেম খেলার মতো চিকিৎসকদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছিল। ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক হাসপাতালগুলো গুঁড়িয়ে দিচ্ছিল। এত হত্যার পরও অপরাধের জন্য দায়বদ্ধতা নেই।

গাজায় আন্তর্জাতিক আইনকেও কবর দেওয়া হলো। ২০২৩ সালের নভেম্বরে যখন আল-শিফা হাসপাতাল অবরোধের মুখে পড়ে, তখন ১৫ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ ইসরায়েলে ইউরোপীয় নেতারা ফটোসেশনে আনন্দে মেতে ওঠেন। পরে হামলার ছবিগুলোতে দেখা যায়, বুলডোজারের নিচে চূর্ণ হয়ে যাওয়া শত শত দেহ গণকবরে ঢোকানো হচ্ছে। হাসপাতালে নবজাতক কোনো সহায়তা না পেয়ে একা একাই ইনকিউবেটরে মারা গিয়েছিল।

ন্যায়বিচার নেই, শান্তিও নেই
গাজার মৃতদের তালিকায় ছিল সাঈদ দারউইশ আল-কিলানেই নামের এক বৃদ্ধের নাম। তাঁর বয়স ৮৪ বছর। তিনি জন্মেছিলেন এক মুক্ত ফিলিস্তিনে। সেই ফিলিস্তিনে কোনো দখলদার ছিল না। সাঈদের শৈশব কেটেছিল বেইত লাহিয়ার উর্বর মাটিতে। হাজারো তারায় ঝলমল করা আকাশ দেখতেন। শেষ জীবনে নিজ মাতৃভূমিতে দুই লাখ টনেরও বেশি বিস্ফোরকের আঘাত দেখেছেন। অবশেষে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা এলো। তাতে ন্যায়বিচার বা জবাবদিহিতার বিষয়টি অনুপস্থিত। যারাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তারাই শান্তির পরিকল্পনা করেছে। ন্যায়বিচার যেখানে নেই, সেখানে শান্তি কোথা থেকে আসবে।

Related Articles

এতিম ও ওলামা-মাশায়েখদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রীর ইফতার

পরিকল্পিত জাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন...

নারী-পুরুষ সমান অধিকার ভোগ করবে, এমন দেশ গড়তে চান প্রধানমন্ত্রী

নারী-পুরুষ সমান অধিকার ভোগ করবে, এমন দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক...

দেশে সব ধরনের তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে: জ্বালানি মন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে দেশে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে যে...

সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে আসছে ভারত

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগে বাংলাদেশের ভারতে না খেলা নিয়ে উত্তাল হয়েছিল ক্রিকেট...