গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা, তাঁর কাছে শপথ নেওয়া হয়েছে, আজ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে সেই রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের বিরোধিতা করাকে স্ববিরোধিতা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। কেন এটা করা হলো, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ক্ষমতাসীন দল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণ ঘিরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়। প্রথমে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সংসদে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতির প্রতিবাদ জানান। পরে বিরোধী দলের অন্য সদস্যরা নানা বক্তব্যসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রত্যাখ্যান করে প্রায় পাঁচ মিনিট বিক্ষোভের পর সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধী দলের সদস্যরা ওয়াকআউট (বর্জন) করেন।
বিরোধী দলের এই ভূমিকা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য জানতে চান এক সাংবাদিক। জবাবে তিনি বলেন, এই প্রশ্নটা তাদের করা যায়। যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তারা আলাপ-আলোচনা করেছে ৫ আগস্টের বিকেল বেলা ও ৬ আগস্ট এবং যে রাষ্ট্রপতির কাছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্য উপদেষ্টারা শপথ নিয়েছেন। তাঁদের দু-একজন তো এই সংসদেরও সদস্য হয়ে আসছেন। তো সেটা তাঁদের জিজ্ঞেস করা যায়, এই স্ববিরোধিতা কেন?’
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বিধি মোতাবেক ওয়াকআউট করতে পারেন। তাঁরা ওয়াকআউট করেছেন। এটা ব্যতিক্রম কোনো কিছু, ঘটনা নয়। তাঁরা আবার আসবেন, আগামী দিনে যে সংসদ বসবে, সেদিন আবার আসবেন।
সংসদকে বিএনপি কেমন রাখতে চায়—এই প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অবশ্যই সংসদ অর্থবহ হবে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে। জাতীয় সব সমস্যার এবং সমস্ত ইস্যুর এখানে আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে আমরা সমাধানে যাব ইনশাআল্লাহ। জাতীয় ঐক্য বজায় রাখব। ফ্যাসিবাদবিরোধী যে জাতীয় ঐক্য আমাদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে, সেই ঐক্যকে আমরা ধরে রাখব এবং জাতীয় যেকোনো ইস্যুতে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাব।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আজকের দিনের জন্য পুরো জাতি ১৭-১৮ বছর অপেক্ষা করেছে। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে গণতন্ত্র অর্জিত হয়েছে, গণতন্ত্র উত্তরণের পথ পরিষ্কার হয়েছে, আজ নতুনভাবে সেই নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হয়েছে। জাতীয় সংসদ যেন জাতির সব ইস্যু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হয়। এর মধ্য দিয়ে এমন একটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রাখা হবে, যে চর্চার মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক শক্তিশালী বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা যাবে। আগামী রোববার বেলা ১১টায় আবার সংসদ বসবে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান।