পরিকল্পনা কমিশনের যুগ্ম সচিব মাকসুদা হোসেনকে সরকারি গাড়িতে জিম্মি করে ছয় লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে তাঁর চালকের বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা ওই কর্মকর্তাকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরিয়ে এক পর্যায়ে পরিকল্পনা কমিশনে নিয়ে আসেন চালক। তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁকে আটক করেন।
ভুক্তভোগী মাকসুদা হোসেন পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগে কর্মরত। সরকারি চালক আবদুল আউয়াল গত দুই মাস ধরে তাঁর গাড়ি চালাচ্ছিলেন। এর আগে তিনি কমিশনের আরেকজন যুগ্ম সচিবের গাড়িচালক ছিলেন।
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, অপহরণের অভিযোগে বিকেলে চালককে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
মাকসুদা হোসেন জানান, সকাল ৮টায় ধানমন্ডির বাসা থেকে তিনি শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের উদ্দেশে রওনা হন। চালক আবদুল আউয়াল চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে এসে গাড়ি কমিশনে না নিয়ে বিজয় সরণির দিকে যেতে থাকেন। কেন পথ পরিবর্তন করা হয়েছে, জানতে চাইলে চালক জবাব দেননি। এর পর মহাখালী, বনানী হয়ে বিমানবন্দর সড়কের দিকে গাড়ি চালাতে থাকেন তিনি।
যুগ্ম সচিব ৯৯৯ নম্বরে কল দেওয়ার চেষ্টা করলে চালক জোর করে তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বন্ধ করে দেন। গাড়ির দরজা লক করে দেন। এর পর উত্তরা দিয়াবাড়ী হয়ে বেড়িবাঁধ ও সাভারের হেমায়েতপুর ঘুরে দুপুর ১২টার দিকে পুনরায় পরিকল্পনা কমিশনের সামনে আসেন।
মাকসুদা হোসেন বলেন, চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে গাড়ি থামিয়ে চালক তাঁর মায়ের চিকিৎসার জন্য ছয় লাখ টাকা দাবি করেন। তাৎক্ষণিকভাবে অন্তত ৫০ হাজার টাকা না দিলে তাঁকে ছাড়া হবে না বলে জানান। তখন তিনি কৌশলে বলেন, অফিসে গেলে টাকার ব্যবস্থা হবে। এর পর চালক তাঁকে কমিশনের ভেতরে নিয়ে এলে নিরাপত্তা কর্মীরা আটক করেন।
একজন পদস্থ কর্মকর্তাকে জিম্মি করার খবরে প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে তোলপাড় শুরু হয়। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দ্রুত গাড়িটি ট্র্যাক করা শুরু করে। পরিকল্পনা বিভাগের সচিব শাকিল আখতার জানান, চালক আবদুল আউয়াল মাদকাসক্ত বলে তারা প্রাথমিক তথ্যে জানতে পেরেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উদ্ধার হওয়ার পর মাকসুদা হোসেন বলেন, ‘টাকা প্রয়োজন হলে চালক চাইতে পারতেন। কিন্তু এভাবে জিম্মি করে চার ঘণ্টা রাস্তায় ঘোরানো ও মোবাইল কেড়ে নেওয়া ভীতিকর।’