Home আন্তর্জাতিক বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক

Share
বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে এবার ইলন মাস্ক পরিচিতি পেয়েছেন বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে। তিনি এখন ইন্টারনেট সংস্কৃতির অন্যতম কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে এবং অতিধনীদের প্রতি জনমতের একাংশ হয়ে উঠেছে নেতিবাচক। তবু, আকাশছোঁয়া সম্পদের মালিক হওয়ার পরও ইলন মাস্ক তার অনুগত সমর্থকগোষ্ঠী ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। অন্যদিকে, ওয়ারেন বাফেটের মতো ধনকুবেররা সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়েছিলেন তাদের সহজ-সরল ব্যক্তিত্বের কারণে, কিন্তু মাস্কের ক্ষেত্রে সেই ধরনের ভাবমূর্তি নেই।
সমর্থকদের মতে, মাস্কের সরাসরি ও খোলামেলা বক্তব্যই তার জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, তিনি অলিগার্কের মতো ক্ষমতা প্রয়োগ করেন, তার কোম্পানিগুলোর করপোরেট পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং রাজনৈতিক বিষয়ে তার ক্রমবর্ধমান পক্ষপাতমূলক অবস্থান বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
রয়টার্স বলছে, এসব বিতর্কের পরও রকেট, স্যাটেলাইট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা স্পেসএক্স বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তাদের প্রাথমিক শেয়ার বিক্রির (আইপিও) মাধ্যমে রেকর্ড ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। এটি মাস্কের ব্যবসায়িক উদ্যোগগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহেরই প্রতিফলন।
শেয়ার বিক্রির আগে, মাস্কের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭৮০ বিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করেছিল ফোর্বস, যা তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ল্যারি পেজ-এর তুলনায় অনেক বেশি।
ফোর্বস ওয়েলথের ডেপুটি সম্পাদক ম্যাট ডুরোট বলেন, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ধনী ব্যক্তির সম্পদ প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের আশেপাশে ছিল, যা মাস্কের সম্ভাব্য সম্পদের এক-তৃতীয়াংশেরও কম।
বর্তমানে মাস্কের সম্পদের বড় অংশই স্পেসএক্সে বিনিয়োগ করা, যেখানে তার মালিকানাধীন শেয়ারের মূল্য প্রায় ৮৬৬ বিলিয়ন ডলার। রয়টার্সের হিসাব বলছে, এর সঙ্গে টেসলা এবং অন্যান্য সম্পদের মূল্য যোগ করলে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১.১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি হবে।
ইলন মাস্ক প্রথমে টেসলা ও স্পেসএক্সের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন। পরে ২০২২ সালে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স (সাবেক টুইটার)-কে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে অধিগ্রহণ করেন। এই চুক্তির ফলে তিনি শত শত মিলিয়ন ব্যবহারকারীর কাছে সরাসরি পৌঁছানোর সুযোগ পান এবং রাজনীতি, অভিবাসন, সরকারি ব্যয় ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রভাবশালী কণ্ঠে পরিণত হন।
রাজনীতিতে মাস্কের সম্পৃক্ততা, বিশেষ করে গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি’-তে ভূমিকা ছিল তার সবচেয়ে বিতর্কিত পদক্ষেপগুলোর একটি।
এই রাজনৈতিক বিতর্কের প্রভাব ২০২৫ সালে টেসলার ব্যবসায়ও পড়ে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে কোম্পানিটির গাড়ি বিক্রি কমে যায়, কারণ বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও ভোক্তা বয়কটের ঘটনা ঘটে।
Related Articles

হাজারো ডিসেম্বর যাবে, কিন্তু শেখ হাসিনা আর ফিরবেন না: রাশেদ খাঁন

হাজারো ডিসেম্বর চলে যাবে কিন্তু শেখ হাসিনা বাংলাদেশে আর ফিরবে না বলে...

বিজয়া দশমী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা

শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে দেশের সকল সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সব নাগরিককে...

রণবীরকে ছাড়াই দুর্গাপূজায় আলিয়া, সঙ্গী ছিলেন কে

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে ভারতজুড়ে। পশ্চিমবঙ্গের...

বাংলাদেশের ফুটবলকে পরের ধাপে নিতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে ফিফা

বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নে ছেলেদের ও মেয়েদের ফুটবল, অবকাঠামো, প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং স্কুলভিত্তিক বিভিন্ন...