ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কন পাঁচ দিনের যাত্রাবিরতি শেষে থাইল্যান্ড ছেড়েছে।
রোববার মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, থাইল্যান্ডের লায়েম চাবাং বন্দরে পাঁচ দিন অবস্থানের পর রণতরীটি সেখান থেকে যাত্রা করেছে।
ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়াসহ টানা ২৮৬ দিন সাগরে কাটানোর পর বিশ্রাম ও পুনরায় প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রণতরীটি থাইল্যান্ডে যাত্রাবিরতি করেছিল। মার্কিন নৌবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এত দীর্ঘ সময় টানা সাগরে থাকার ঘটনা আধুনিক যুগে রণতরীটির জন্য একটি রেকর্ড।
আব্রাহাম লিঙ্কনের কমান্ডিং অফিসার ক্যাপ্টেন ড্যান কিলার এক বিবৃতিতে থাইল্যান্ডের জনগণকে তাদের আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানান।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণত মার্কিন নৌবাহিনীর একটি মোতায়েন ছয় থেকে নয় মাস স্থায়ী হয়। তবে যুদ্ধ বা সংঘাতের সময় এই সময়সীমা আরও দীর্ঘ হতে পারে।
প্রায় পাঁচ হাজার নৌসেনা নিয়ে আব্রাহাম লিঙ্কন ইরান যুদ্ধের বিভিন্ন অভিযানে অংশ নেয়। একই সঙ্গে এটি মার্কিন নৌ-অবরোধের অংশ হিসেবেও কাজ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতাদের মতে, টানা ২৮৬ দিন সাগরে অবস্থানের মধ্য দিয়ে রণতরীটি আধুনিক যুগে একটানা মোতায়েনের নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।
আব্রাহাম লিঙ্কন আরও কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে বুধবার ভোররাতে থাইল্যান্ডে পৌঁছেছিল। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মূল ভূখণ্ডে থাইল্যান্ডই যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র চুক্তিবদ্ধ মিত্র।
রণতরীগুলো থাইল্যান্ডে পৌঁছানোর পর দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, মার্কিন নৌযানগুলো প্রায় পাঁচ দিন সেখানে অবস্থান করবে।
এ সময় রণতরীতে থাকা মার্কিন নাবিক ও মেরিন সেনাদের অনেককে বেসামরিক পোশাকে পাতায়ার বিভিন্ন এলাকায় যেতে দেখা যায়। ব্যাংকক থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত পর্যটন শহর পাতায়ার একটি হোটেলে বাসে করে তারা পৌঁছান। অনেক নাবিককে হাসিমুখে স্থানীয়দের দিকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানাতেও দেখা যায়।