অন্যের জমি দখল করে সেখানে বাবার নামে কলেজ প্রতিষ্ঠা! এমনই এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটিয়েছেন বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির। শুধু তাই নয়, জমি দখলের প্রতিবাদ করায় জমির মালিক স্কুলশিক্ষককে হুমকি-ধামকি দিয়ে মামলার তালিকায় নাম ঢুকিয়ে এলাকাছাড়াও করেছেন তিনি। এতে করে এলাকায় দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার জালাল উদ্দিন মেমোরিয়াল টেকনিক্যাল কলেজের পাশেই ৯ শতাংশ জায়গা। ওয়ারিশ সূত্রে জমির মালিক কামালেরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহফুজুর রহমান ও তার ভাই মিরাজুল ইসলাম। চব্বিশের ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর ওই জমির দিকে চোখ পড়ে সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকিরের। প্রাণনাশের হুমকি প্রদানের পর মামলার তালিকায় দুই ভাইয়ের নাম ঢুকিয়ে তাদেরকে এলাকায় থাকতে দেননি।
সূত্র জানায়, একই প্লটে মোট ৩৮ শতাংশের মধ্যে ২৯ শতাংশ জমির মালিক সোনাতলা একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির ও তার তিন ভাই আহসান মমিনুল সোহেল, আহসান হাবিব রাজা ও আহসান হাবিব মোহন। প্লটের বাকি ৯ শতাংশের মালিক স্কুলশিক্ষক মাহফুজুর রহমান ও তার ভাই মিরাজুল ইসলাম। ৫ আগস্টের পর নিজেদের ২৯ শতাংশের পাশের ৯ শতাংশ জায়গা কেনার জন্য নানা ভাবে প্রস্তাব দিয়েছে মাহফুজুর রহমানকে। রাজি না হওয়ায় নিজের ক্ষমতার দাপট কাজে লাগাতে শুরু করেন জাকির।
এদিকে হুমকি, মামলা ও জমি হারানোর দুশ্চিন্তায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্কুলশিক্ষক মাহফুজুর রহমানের বাবা ওসমান গনি। একদিকে বাবার মৃত্যু, এরপর মামলা আর হুমকির মধ্যেই দিন কাটছে মাহফুজুর রহমান ও তার ভাই মিরাজুল ইসলামের। জীবন নিয়েও শঙ্কা দেখা দেওয়ায় থাকছেন অন্য এলাকায় গিয়ে।
স্কুল শিক্ষক মাহফুজুর রহমান বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে জাকির ও তার লোকবল নানাভাবে আমাকে জায়গা ছাড়ার জন্য বলেছে। আমি রাজি হইনি। আমি, আমার ছোট ভাই বা পরিবারের কেউ কোনো ধরনের রাজনীতির সাথে জড়িত নই। তারপরেও আমাদের হয়রানি করতে বিভিন্ন মামলায় আমাদের নাম দিয়েছে। আমাদের নামে এখন মোট ৭ টা মামলা চলছে। জমি হারানোর দুশ্চিন্তা আর মামলার কথা চিন্তা করতে করতে আমার বাবা মারা গিয়েছেন। তারা ক্ষমতাধর, আল্লাহই তাদের বিচার করবে।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে যাওয়া হয় সোনাতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকিরের কাছে। কিন্তু তার সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করে সাক্ষাৎ মেলেনি। তাকে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।
এদিকে এলাকায় এমন দখলদারি ও জুলুম করায় জাকিরের বিরুদ্ধে চরম ক্ষিপ্ত স্থানীয়রা। এমন কোনো ব্যক্তি বিএনপি কিংবা অন্য কোনো দলের প্রার্থী হোক তা তারা চান না। তাদের ভাষ্য, যার হাতে মানুষ ও সম্পদ নিরাপদ নয়, তাকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে চাই না।