পরিকল্পিত জাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার ( ৭মার্চ) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এক ইফতার মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন। এতিম শিক্ষার্থী ও ওলামা-মাশায়েখদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রী এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন।
ওলামা-মাশায়েখদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাত ব্যবস্থাপনার বিষয়টি আপনাদের কাছে যৌক্তিক মনে হলে এ ব্যাপারে বিত্তবানদের সচেতন করার ক্ষেত্রে আপনারা আলেম-ওলামা-মাশায়েখরা বেশি ভূমিকা পালন করতে পারেন। জাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন করার লক্ষ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা, ইসলামিক স্কলার এবং সরকারি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিদ্যমান ‘জাকাত বোর্ড’কে পুনর্গঠন সম্ভব। জাকাতকে দারিদ্র্য বিমোচনে ব্যবহার করে ইসলামী বিশ্বে বাংলাদেশকে একটি মডেল হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ রয়েছে।”
তিনি বলেন, ‘ইসলামের বিধান অনুযায়ী আমাদের সমাজে অনেক বিত্তবান নিজ উদ্যোগেই জাকাত দিয়ে থাকেন। কেউ কেউ সরকারের জাকাত বোর্ডের মাধ্যমেও তা পরিশোধ করে থাকেন। বিভিন্ন গবেষণা রিপোর্টে দেখা গেছে, প্রতি বছর বাংলাদেশে এ জাকাতের পরিমাণ ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। কেউ কেউ এর পরিমাণ আরও অনেক বেশি বলেছেন। তবে সুপরিকল্পিত এবং সুসংগঠিতভাবে জাকাত বণ্টন না করায় বিত্তবান ব্যক্তির জাকাত আদায় হয়ে গেলেও এর অর্থ দারিদ্র্য বিমোচনে কতটা ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে, এটি একটি বড় প্রশ্ন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাকাত দাতাদের ইসলামী বিধান এমনভাবে জাকাত বণ্টনে উৎসাহিত করে, যাতে একজন জাকাত গ্রহীতা প্রথম বছর জাকাত গ্রহণের পর পরের বছর আর গ্রহণ করতে না হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পিতভাবে বণ্টন করা গেলে দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাত যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। এমন বাস্তবতায় সরকার জাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর এবং লক্ষ্যভিত্তিক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ধনী-দরিদ্র সব মিলিয়ে দেশে বর্তমানে পরিবারের সংখ্যা কম-বেশি চার কোটি। এ পরিবারগুলোর মধ্যে যদি দরিদ্র কিংবা হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে প্রতি বছর পর্যায়ক্রমে ৫ লাখ পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে জাকাত দেওয়া হয়; আমার বিশ্বাস, এ পরিবারগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ পরিবারকে পরের বছর আর জাকাত না-ও দিতে হতে পারে। লক্ষ্যভিত্তিক এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে জাকাত দেওয়া হলে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে শুধু জাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।’
তারেক রহমান বলেন, ‘বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে গ্যাস-বিদ্যুৎ-জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যয় সংকোচন এবং কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে এবারের রামাদানে আজ (শনিবার) এবং গতকালের (শুক্রবার) ইফতার মাহফিলসহ মোট দুটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছি। বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবারের রামাদানে এটিই হয়তো শেষ ইফতার মাহফিল। এ ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণকারী এতিম সন্তানরাই আজকের গুরুত্বপূর্ণ মেহমান। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে ‘এতিমের হক’ আদায়ের ব্যাপারে মুসলমানদের প্রতি ইসলামের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। এ ইফতার মাহফিল এতিমদের প্রতি বিত্তবানদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং দায়দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
তিনি বলেন, ‘পবিত্র রামাদান ত্যাগ এবং সংযমের মাস। রহমত-বরকত-সংযমের মাস। অথচ অপ্রিয় হলেও সত্য, রমজান এলেই আমাদের কেউ কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেন। এ মাসকে লোভ-লাভের মাস বানিয়ে ফেলেন। পবিত্র মাসেও যারা অসাধু পন্থা অবলম্বন করছেন, আপনাদের প্রতি বিনীত আহ্বান, আপনারা মানুষের কষ্টের কারণ হবেন না।’
ইফতার মাহফিলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, সমাজকল্যাণবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, আসসুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমদুল্লাহ, জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক প্রমুখ অংশ নেন।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, প্রেস সচিব ছালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।