আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সব নারী চা শ্রমিকের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী ভিক্টোরিয়া স্কুল মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির তৃতীয় ধাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আমার কথা রাখতে পেরেছি। সরকার আজ চা বাগানের নারী শ্রমিকদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়েছে। যদিও আজ সবাইকে দেওয়া সম্ভব হয়নি, তবে ইনশাআল্লাহ আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের প্রায় সকল চা শ্রমিকের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
নির্বাচনী ইশতেহারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। আমরা তাদের কথা দিয়েছিলাম, আমাদের নির্বাচিত করলে জনগণের কল্যাণে কাজ করব। বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করতে হলে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী করা অপরিহার্য।
নারী ক্ষমতায়ন ও জনকল্যাণে গৃহীত পদক্ষেপ
প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে প্রায় ৪ কোটি পরিবার রয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি পরিবারের কাছে, বিশেষ করে নারীদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। জয়ী হওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যেই সরকার এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে।
আর্থিক সহায়তা : ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রতিটি সুবিধাবঞ্চিত পরিবার প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে আর্থিক সুবিধা পাবে। চা শ্রমিকদের টেকসই আবাসন নির্মাণে ৫০ জনকে ২ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানে তিনজনের হাতে চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত রোগী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়ন ও মেধাবী শিক্ষার্থী এবং দুস্থ ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে বিশেষ আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের তৃতীয় ধাপে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের তালিকাভুক্ত ১৫৫টি পরিবারের মধ্যে ১০ জনের হাতে কার্ড তুলে দিয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, তার সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানের টেকসই পরিবর্তন নিশ্চিত করা।
তথ্যসুত্রঃ কালবেলা