রাজনৈতিক মতবিরোধকে রাজনৈতিক পরিসরেই সীমাবদ্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, ‘অতীতে বিশ্বের অনেক বিপ্লব ও গণঅভ্যুত্থান আত্মঘাতী তৎপরতা, সহিংসতা ও অতিমাত্রায় বাড়াবাড়ির কারণে ব্যর্থ হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব পরিস্থিতি প্রতিবিপ্লবের ক্ষেত্রও তৈরি করেছে। অতীতে অসংখ্য বিপ্লব ও অভ্যুত্থান হটকারিতা ও নৈরাজ্যের মধ্য দিয়ে বিপ্লব ও অভ্যুত্থানের নেতা ও সন্তানদেরই খেয়ে ফেলেছে।’
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর নাখালপাড়ার আহরিকা হোটেল মিলনায়তনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির স্থানীয় শাখা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
গণঅভ্যুত্থানের অংশীজনদের উদ্দেশে সাইফুল হক বলেন, ‘রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে সংঘাত-সংঘর্ষে রূপ দেওয়া উচিত হবে না। নিজেদের মধ্যে আত্মঘাতী সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে অপশক্তি সেই সুযোগ নিতে পারে।’ তাই সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘এক যাত্রায় সবকিছু অর্জনের চিন্তা না করাই ভালো। সবকিছু যদি বিএনপি সরকারকে দিয়েই করাতে হয়, তাহলে অন্যদের রাজনীতি করার প্রয়োজন কী?’ তিনি গণঅভ্যুত্থানের গণআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিএনপি সরকারের দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সংগঠক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফিরোজ আলী, শ্রমিকনেতা জাকির হোসেন তালুকদার, মকবুল হোসেন ও আজাদ হোসেন হৃদয় প্রমুখ।
সভার শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির দুই কর্মী বদিউজ্জামাল ও আবদুল লতিফসহ জুলাইয়ের সব শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।